চুয়াডাঙ্গায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার ১০ম শ্রেণীর এক মাদরাসাছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন সালাম। পরবর্তীকালে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে ধর্ষণ করা হয়।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda
চুয়াডাঙ্গায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সালাম নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সালাম (২১) দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গার বজলুর রশিদের ছেলে।

আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামি সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দু’টি ধারায় সাজা দেয়া হয়। আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। একই আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার ১০ম শ্রেণীর এক

মাদরাসাছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন সালাম। পরবর্তীকালে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে ধর্ষণ করা হয়। পরে এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মেডিক্যাল রিপোর্টে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভিকটিমের বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও, প্রমাণের অভাবে মামলার অন্য আসামি, বজলুর রশীদ মজু, মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে বাদী পক্ষ।

আশা করি, এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।