মঠবাড়িয়ায় ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার, ২ বছরের কারাদণ্ড

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া এক ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে।

পিরোজপুর প্রতিনিধি

Location :

Pirojpur
গ্রেফতার ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
গ্রেফতার ভুয়া হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া এক ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর গোডাউন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের পর নিজের আসল পরিচয় লুকাতে ওই ব্যক্তি বারবার নাম পরিবর্তন করছেন এবং নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

গ্রেফতার ওই ব্যক্তি নিজেকে ডা: লিয়াকত হোসেন পরিচয় দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের বিভিন্ন ক্লিনিকে হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে এক প্রসূতি মাকে পরীক্ষা করে তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে ভুল রিপোর্ট দেন ওই ডাক্তার। পরে ডা: সৌমিত্র মজুমদার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখেন বাচ্চাটি জীবিত ও সুস্থ। এই ঘটনার পর তার প্রেসক্রিপশনের ভুল ও অসংলগ্নতা দেখে স্থানীয় চিকিৎসকদের আরো সন্দেহ হয়। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা: সৌমিত্র সিনহা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।

পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ বন্দর গোডাউনে মসজিদের পাশে সাদেকা ভিলার নিচ তলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি একেক সময় একেক নাম বলে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। প্রথমে নিজেকে ডা: লিয়াকত হোসেন দাবি করলেও বিএমডিসি ডাটাবেজে তার সত্যতা মেলেনি। পরবর্তীতে তিনি ডা: নুরুল ইসলাম এবং সবশেষে উরিং চাং নামে এক চাকমা চিকিৎসকের পরিচয় দেন।

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এমনকি নিজের স্থায়ী ঠিকানার ব্যাপারেও বারবার মিথ্যা তথ্য দিচ্ছিলেন।

এ ব্যাপারে মঠবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) সৌমিত্র সিনহা বলেন, ‘প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে তার আসল পরিচয় পাওয়া যায়। তার নাম সুবাস চন্দ্র মোহন্ত। তার বাড়ি বগুড়াতে। তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রেখেছিল নুরুল হাসান। ভুয়া ডাক্তার ধরার ক্ষেত্রে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, এই ভুয়া ডাক্তারকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।