চকরিয়ায় প্রচণ্ড গরমে ঘনঘন লোডশেডিং, ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী

লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে-বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় এক ঘণ্টা পর পর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে।

রফিক আহমদ, চকরিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Chakaria
বিদ্যুৎ বিভ্রাট
বিদ্যুৎ বিভ্রাট |প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অন্যদিকে জালানি তেলের অভাবে জেনারেটর চালানো বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। এতে পৌর এলাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়েছে।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করতে হচ্ছে, তার ওপর ভয়াবহ লোডশেডিং ব্যবসার ক্ষতি করছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব পড়ে অনেকে মাসের শেষে দোকান ভাড়া দিতে না পেরে চরম সঙ্কটে পড়েছেন। আবার অনেকে মার্কেটের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ঘনঘন লোডশেডিং।

উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরো বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে-বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় এক ঘণ্টা পর পর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে ঘনঘন লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও শিশুরা বেশিরভাগ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এদিকে তীব্র গরমে অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।

চকরিয়া পৌর এলাকার হাসপাতাল পাড়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী লাইয়া মনি বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার কোনো হিসাব নেই। গত কয়েকদিন শুধু রাতেই পাঁচ-সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে দুই ঘণ্টা পরে আসে। গরমের কারণে ঠিকমতো পড়ালেখা ও ঘুম হচ্ছে না। যার ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলার অটোরিকশা চালকরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে অটোরিকশার ব্যাটারিতে চার্জ করতে পারছি না। এতে ভাড়া মারতে না পারায় পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে শুরু করে পৌর শহরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে কয়েক হাজার পরিবার। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় রিকশা চালকরা চরম হতাশায় পড়েছেন। এমন পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে তবে পাম্পের পানির ওপর নির্ভরশীল ফসলেরও চরম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ ও আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় এ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।