তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমানে দেশে যে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, সেই সঙ্কটের জন্য দায়ী বিগত স্বৈরাচারী সরকার।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোকে নতুন করে মেরামত করতে চায় বর্তমান তারেক রহমানের সরকার। এই রাষ্ট্র এবং রাজনীতিকে সংস্কার করতে না পারলে চলমান সঙ্কট থেকে মানুষকে উদ্ধার করা যাবে না।
আজ সোমবার সকালে দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস থাকলেও বিগত সরকার ক্ষীণ ব্যবসার স্বার্থে গ্যাস উত্তোলনের কোনো কর্মসূচি না নিয়ে জ্বালানি আমদানি নির্ভর একটি রুটিন তৈরি করেছিল। আজকে দেশে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলে হরমুজ প্রণালীর এই সমস্যায় পড়তে হতো না দেশকে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনসেবা দেয়ার জন্যই গণমাধ্যম। তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা যাতে না আসে, সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে গণমাধ্যমকে।
টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু ক্ষমতার জন্যই বিএনপি সচেষ্ট ছিল না, যেহেতু ক্ষমতাকে জনগণের সেবার কাজে লাগাতে চায়; সে কারণেই দুর্বল রাষ্ট্রের সেই সম্ভাবনাকে জাতির সামনে আগেই তুলে ধরা হয়েছে এবং তাকে সংস্কার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিএনপি সরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা: শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: গোলাম মোর্শেদ সজীব।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন এস এম মঞ্জুরে এলাহী, আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি ডা: সাহানাজ বেগম, ইউনিসেফ প্রতিনিধি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা: মনিরুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সুধী সমাবেশে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বরিশালের আটটি উপজেলায় ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৪০ জনকে হামের টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আট হাজারের বেশি কেন্দ্রে এই টিকা দেয়া হবে।
বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে এক হাজার ৯৯০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন শিশু মারা গেছে।



