সময়টা মোটেও অনুকূলে নেই নেইমারের। পিছু ছাড়ছে না চোট। জাতীয় দলের বাইরে আছেন তিন বছরের বেশি সময় ধরে। শঙ্কা আছে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া নিয়েও।
এর মাঝে ঘটিয়েছেন নতুন ঘটনা। নারী রেফারিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বড় বিপদে পড়ে গেছেন তিনি। যে কাণ্ডে বড় শাস্তি হতে পারে তার, নিষিদ্ধ হতে পারেন ১২ ম্যাচ!
স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সান্তোসের হয়ে রেমোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার।
সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচ পরিচালনার বদলে রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাই নিজেই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু হতে চেয়েছেন ও খেলোয়াড়দের সাথে যথাযথ যোগাযোগ রাখেননি।
সেই সাথে তিনি দাবি করেন, ম্যাচে তাকে পেছন থেকে ফাউল করা হলেও রেফারি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, এমনকি উল্টো তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে।
এরপর রেফারিকে উদ্দেশ করে তিনি ক্ষুব্ধ ভাষায় মন্তব্য করেন, যা ক্যামেরায় ধরা পড়ে ও দ্রুতই সামাজিক ও ক্রীড়া মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। যেখানে নেইমার বলেন-
‘এটা খুবই অন্যায় কারণ আমাকে পেছন থেকে ফাউল করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত অশোভন ও ম্যাচের শেষে এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। এটা একবার নয়, তিন-চারবার হয়েছে। আমি শুধু অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম আর অমনি আমাকে কার্ড দেয়া হলো।’
এরপর হেসেই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন নেইমার, ‘যাই হোক, সাভিও সব সময়ই এমন। আমার মনে হয় সে আজ পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় মাঠে এসেছে।’
নেইমারের এমন মন্তব্য ব্রাজিলিয়ান ফুটবল মহল ‘অপমানজনক ও অখেলোয়াড়সুলভ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা শুরু করেছে।
বিভিন্ন ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, নেইমারের বিরুদ্ধে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফেডারেশন অতীতের একটি উদাহরণও বিবেচনায় নিচ্ছে, যেখানে একজন খেলোয়াড় রেফারিদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়, তবে নেইমারের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তি আসতে পারে।



