ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে সারা দুনিয়া যখন কথা বলছে, সমালোচনা করছে ইহুদি বর্বরতার, তখন গাজাবাসীর হয়ে কথা বলে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় তুলেছেন লামিনে ইয়ামাল।
গত সোমবার লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর ছাদখোলা বাসে বার্সেলোনার শোভাযাত্রায় ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। সেখানে তিনি গাজাবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান।
শোভাযাত্রায় ইয়ামালের ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোর ছবি ও ভিডিও দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই তা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়।
সেই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রয়ে গেছে যার রেশ। বরং বিষয়টা নিয়ে এখন কথা হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে। তবে এমন ঘটনায় ইয়ামালের পাশেই আছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী।
ইয়ামালের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বিষয়টা নিয়ে সমালোচনা করেন।
স্প্যানিশ ভাষায় দেয়া এক পোস্টে ইসরাইল ও ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন।
পাশাপাশি ইয়ামালের এ আচরণের দায় থেকে বার্সেলোনাকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান কাৎজ।
তিনি লিখেন, ‘লামিনে ইয়ামাল ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেয়া বেছে নিয়েছেন। অথচ আমাদের সেনারা হামাসের মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়ছে। যে সংগঠন গত ৭ অক্টোবর ইহুদি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংসতা চালিয়েছে।’
কাৎজ আরো লেখেন, ‘যারা এ ধরনের বার্তাকে সমর্থন করেন, তাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন করা উচিত- তারা কি একে মানবিক মনে করেন? এটি কি নৈতিক? ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইসরাইল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানির মুখে আমি চুপ থাকব না।’
কাৎজ আরো লেখেন, ‘আমি আশা করি, বার্সেলোনার মতো একটি বড় ও সম্মানিত ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের এমন বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেবে। পাশাপাশি এটিও দ্ব্যর্থহীনভাবে পরিষ্কার করবে যে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উসকানি দেয়ার কোনো জায়গা এখানে নেই।’
তবে ইসরাইলি মন্ত্রীর এ বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়।
যেখানে বলা হয়- ‘একটি রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানোর বিষয়টিকে যারা ঘৃণা উসকে দেয়া বলে মনে করেন, তারা হয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছেন, নয়তো নিজের জঘন্য মানসিকতায় অন্ধ হয়ে গেছেন। লামিনে কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতিই প্রকাশ করেছেন, যা কোটি কোটি স্প্যানিশ নাগরিক মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তার জন্য গর্বিত হওয়ার এটি আরো একটি বড় কারণ।’
উল্লেখ্য, একজন মুসলিম হিসেবে ইয়ামাল বরাবরই ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করেন। সেইসাথে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সঙ্কট নিয়ে বরাবরই সংবেদনশীল। মজলুমদের হয়ে কথা বল্পতে তিনি কখনোই কুণ্ঠা বোধ করেন না।
এর আগে, গত মার্চে মিসরের বিপক্ষে স্পেন জাতীয় দলের ম্যাচে দর্শকদের মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধেও সরাসরি প্রতিবাদ জানান ইয়ামাল।



