‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেরই আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। মূলত ফুটবল মাঠ মাতানো তারকারাই থাকেন ফিফা বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
কিন্তু মাঠে না নেমেও শুধুমাত্র গণক হয়েই বিশ্বকাপের মূল চরিত্র হয়ে তারকাখ্যাতি পেয়ে যাওয়া বেশ বিরল ঘটনাই বটে। যেমনটা হয়ে উঠেছিলেন জার্মানির একটি অ্যাকুরিয়ামে থাকা অক্টোপাস ‘দ্য পল।’
২০১০ বিশ্বকাপে নির্ভুল ভবিষ্যৎবাণী করে পল হয়ে উঠেছিল রীতিমতো সেলিব্রিটি। শুধু পল নয়; এই তালিকায় আছে হাতি, বিড়াল, কচ্ছপ, টিয়া পাখির মতো আরো বেশকিছু প্রাণী জ্যোতিষী। যাদের গণনা আলোচনার খোরাক হয়েছে।
এদের কারো অনুমান মিলেছে হুবহু, আবার কারো ভুল হাসির খোরাক জুগিয়েছে। আজ কথা বলবো ফুটবলে জ্যোতিষী হয়ে ওঠা বেশকিছু প্রাণী নিয়ে।
নেলি দ্য এলিফ্যান্ট
নেলি জার্মানির সেরেনগেটি পার্কে থাকা একটি হাতি। তাকে দুটি গোলপোস্টে পতাকা লাগানো নেটের মাঝে বল কিক করতে দেয়া হতো। যে দিকের গোলপোস্টে বল যেত, সেটাই তার ভবিষ্যদ্বাণী ধরা হতো।
২০০৬, ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১২ ইউরো মিলিয়ে মোট ৩৩ ম্যাচে ৩০টি সঠিক ভবিষ্যৎবাণী করে শোরগোল ফেলে দেয় হাতিটি। জানা গেছে- হাতিটি এখনো পার্কে জীবিত আছে।
পল দ্য অক্টোপাস
পল ছিল জার্মানির একটি অ্যাকুরিয়ামের অক্টোপাস। তাকে দুটি খাবারের বাক্স দেখানো হতো, যেখানে দেশের পতাকা থাকত। যে বাক্স থেকে সে আগে খাবার খেত, সেটাই ফল ধরা হতো।
২০১০ বিশ্বকাপে গণনার সাফল্য দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। সে জার্মানির সব ম্যাচসহ স্পেনের ফাইনাল জয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও সঠিক করেছিল। তবে ২০১০ সালের শেষ দিকে সে মারা যায়।
মণি দ্য প্যারাকিট
মণি ছিল সিঙ্গাপুরের একটি টিয়া পাখি। তার মালিক তাকে পতাকা দেয়া কার্ড দেখাতেন, আর সে একটি কার্ড উল্টে ফল নির্ধারণ করত। ২০১০ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৫টি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় আসে পাখিটি।
বিগ হেড দ্য টার্টল
ব্রাজিলের এই কচ্ছপকে মাছ খাওয়ার মাধ্যমে ফল নির্বাচন করতে দেয়া হতো। দুটি পতাকা ও একটি ড্র অপশন থাকত। যে দিকের মাছ খেত, সেটাই ফল ধরা হতো। ২০১৪ বিশ্বকাপে তার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল মিশ্র। যদিও পরে তাকে সমুদ্রে ছেড়ে দেয়া হয়।
আখিলিস দ্য ক্যাট
আখিলিস ছিল রাশিয়ার হার্মিটেজ মিউজিয়ামের একটি সাদা, বধির বিড়াল। তাকে দুটি খাবারের বাটি দেয়া হতো। সে যে বাটি থেকে খেত, সেটাই ফল ধরা হতো। ২০১৮ বিশ্বকাপে তার গণনা ছিল বেশ আলোচিত।
রুবিও দ্য অক্টোপাস
জাপানের এই অক্টোপাস পতাকা দেখে বিভিন্ন দিকে সাঁতার কেটে ফল নির্ধারণ করত। ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সে সবকটি ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক করে।
তবে নকআউট পর্ব শুরুর আগেই তাকে একটি রেস্টুরেন্টে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জাপানের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘শাশিমি’ বানানো হয় অক্টোপাসটিকে দিয়ে। যা সেই সময় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে।
ইয়াশোদা দ্য এলিফ্যান্ট
জার্মানির হামবুর্গ চিড়িয়াখানার এই হাতি দুটি পতাকার মধ্যে একটি টেনে ফল নির্ধারণ করত। ২০২১ ইউরোতে সে কিছু ম্যাচ সঠিকভাবে অনুমান করে। তবে এরপর তাকে চিড়িয়াখানায় ফেরত নেয়া হয়।
আরো নানা সময় নানা প্রাণী ভবিষ্যৎবাণী করে আলোচনায় উঠে আসে। তবে কখনো কখনো তা মিলে গেলেও, কেউ একেবারেই নির্ভুল ছিল না।
এ ছাড়া বর্তমান সময়ে আলোচনায় আচজে ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার ভবিষ্যৎবাণী। সুপারকম্পিউটারের ১০ হাজার সিমুলেশনে এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে স্পেন।
সবশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) শিরোপা জিতবে বলে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছিল ক্রীড়া পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা। এবার দেখা যাক স্পেনের শিরোপাখরা কাটে কিনা!



