ভালো অবস্থানে থেকে দিনশেষ করলো বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে পাওয়া ৪৬ রানের লিডসহ টাইগাররা এগিয়ে আছে ১৫৬ রানে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আজ ওয়ানডের মতো ব্যাট করেছেন মাহমুদুল হাসান জয়
আজ ওয়ানডের মতো ব্যাট করেছেন মাহমুদুল হাসান জয় |ক্রিকইনফো থেকে নেয়া ছবি

সিলেট টেস্ট এখন অনেকটা বাংলাদেশের অনুকূলে। চালকের আসনে থেকেই দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ৪৬ রানের লিডসহ টাইগাররা এগিয়ে আছে ১৫৬ রানে।

অথচ প্রথম দিনটা শেষ হয়েছিল হা-হুতাশ নিয়ে। লিটন দাসের ১২৬ রানের ইনিংসে ভর করেও ২৭৮ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তান দিন শেষ করেছিল বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে।

অবশ্য আজ রোববার ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় তারা। তাতেই ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ। সেই সাথে শেষ সেশনে আবারো ব্যাট করতে নামতে হয় বাংলাদেশের।

ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি। তানজিদ তামিম অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি। আগের ইনিংসে ২৬ রান করলেও এবার ফেরেন মাত্র ৪ রানে। ১৫ রানেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

অন্যদিকে সিরিজ জুড়ে ধুঁকতে থাকা মাহমুদুল হাসান জয় এই ইনিংসে জ্বলে ওঠেন। ব্যাট করতে থাকেন ওয়ানডে মেজাজে। ৫৮ বলে তুলে নেন ফিফটিও। তবে এরপর আর ইনিংস বড় হয়নি।

অতিরিক্ত শট খেলার চেষ্টায় উইকেট দিতে হয় তাকে। আব্বাসের বলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ৬৪ বলে ১০ চারের ৫২ রানের ইনিংস। ৯১ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর মুমিনুল হককে নিয়ে দিনটা স্বস্তিতেই পার করে দেয়ার পথেই ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু মুমিনুল আর স্থির থাকতে পারলেন না, ৬০ বলে ৩০ রান করে দেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ।

তার বিদায়ের পরই আসে দিনের খেলা শেষ হবার ঘোষণা। ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে হোটেলে ফেরে বাংলাদেশ দল। শান্ত অপরাজিত আছেন ৩২ বলে ১৩ রানে।

এর আগে দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই প্রথম উইকেট এনে দেন তাসকিন আহমেদ। তার বল আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাট ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটনের গ্লাভসে। ফজল আউট হয়ে ফেরেন ২১ বলে ৯ রান নিয়ে।

পরের ওভারে এসে আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকেও (৩৪ বলে ১৩) ফেরান তাসকিন। বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান জোড়া উইকেট হারায় মাত্র ২ রানের মাঝেই।

সকাল সকাল ২ উইকেট হারানোর পর শান মাসুদ ও বাবর আজমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। তবে জুটি বড় হতে দেননি মেহেদী মিরাজ। ২৬ বলে ২১ রান করা মাসুদকে ফেরান তিনি।

৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ৬১। এরপর সৌদ শাকিলকে নিয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বাবর আজম। ২৪.৫ ওভারে দলীয় ৭৯ রানে ফেরেন শাকিল। তাকে ৮ রানেই থামান মিরাজ।

এরপর সালমান আগাকে নিয়ে আরো ১৭ রান তুলে বিরতিতে যায় পাকিস্তান। বিরতি থেকে ফিরে ৬৩ বলে ফিফটি তুলে নেন বাবর। যা সাদা পোশাকে তার ৩১তম পঞ্চাশ। তবে ইনিংসটা আর বেশি বড় হয়নি।

বাবরকে শিকার করে উইকেটের খাতা খোলেন নাহিদ রানা। তার ফুল লেংথ বলে ফ্লিক করতে ক্যাচ তোলেন বাবর, সালমানের সাথে গড়া ৬৩ রানের জুটি ভেঙে ফেরেন ৮৪ বলে ৬৮ রান নিয়ে।

বাবরকে ফেরানোর পর উজ্জীবিত হয়ে ওঠে স্বাগতিকেরা। তবে একটু বেশিই যেন উজ্জীবিত হন তাইজুল ইসলাম। বাবর ফেরার খানিকটা পরই সালমান আগাকে ফেরান তিনি, ২১ রান নিয়ে ফেরেন আগা।

পরের উইকেটটাও তার, ফেরান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। ২৭ বল খেলে ১৩ রান করা এই ব্যাটারকে বোল্ড করেন তিনি। তাতেই পাকিস্তান হারায় তাদের শেষ স্বীকৃত ব্যাটারকে। ১৭৪ রানে হারায় ৭ উইকেট।

এরপর হাসান আলী ও সাজিদ খান মিলে চেষ্টা করেছেন ব্যবধান কতটা কমিয়ে আনা যায়। ৩৭ বলে ১৮ রানে হাসানকে ফিরিয়ে সেই চেষ্টা অনেকটা রুখে দেন তাইজুল। তবে থামেননি সাজিদ। হয়ে ওঠেন আগ্রাসী।

তবে নাহিদ রানার আগ্রাসনের সাথে পেরে ওঠেননি। চা বিরতির পর দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন নাহিদ, খুররম শেহজাদ (১০) ও সাজিদ খানকে (৩৮) ফেরান তিনি। ততক্ষণে অবশ্য লিড কমে আসে অনেকটা।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ও তাইজুল নেন তিনটা করে উইকেট। দুইটি করে উইকেট নেন মেহেদী মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।