লাগাম হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা নিয়ে শনিবার মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। যদিও এখনো বেশ এগিয়ে স্বাগতিকেরা, তবে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে পাকিস্তান।
প্রথম দিনের উচ্ছ্বাস বা স্বস্তি যতটুকু ছিল, দ্বিতীয় দিনে সব উধাও। চিত্র বদলে এখন উল্টা চাপে বাংলাদেশ। বড় ভরসার জায়গা ছিল যে পেস বোলিং, সেখানেও মুখ থুবড়ে পড়েছে দল।
মাঝেমধ্যে দু-একটি সুযোগ তৈরি করা, কয়েক বার ব্যাটের কানা ছুয়ে বল যাওয়া আর কখনো কখনো উফ-ইশ করা ছাড়া বাংলাদেশের তিন পেসারের বোলিং ছিল একরোখা, ধারহীন।
দেড় বছর পর ফিরে একদমই বিবর্ণ ছিলেন তাসকিন আহমেদ, ওভারপ্রতি পাঁচের বেশি রান দিয়েছেন নাহিদ রানাও। বলে গতি থাকলেও খুব একটা প্রভাব রাখতে পারেননি ইবাদত হোসেন।
উইকেটও এ দিন মনে হয়েছে দারুণ ব্যাটিং সহায়ক। মাঝেমধ্যে কিছুটা অসমন বাউন্স ছাড়া তেমন কিছু দেখা যায়নি। যদিও এই উইকেটেই দিনের শুরুতে কেঁপেছে স্বাগতিকেরা।
৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ শেষ ৬ উইকেট হারায় মাত্র ১১২ রান যোগ করেই। অর্থাৎ স্বাগতিকেরা গুটিয়ে যায় ৪১৩ রানে। গুটিয়ে দেন মোহাম্মদ আব্বাস।
যে উইকেটে বাংলাদেশের পেসত্রয়ী ধারহীন বোলিংয়ে রান বিলিয়েছেন, সেখানেই দারুণ বোলিং করেন আব্বাস। দিনের শুরুতে টানা ৩ উইকেট নেন তিনি। সব মিলিয়ে তার শিকার ৫ উইকেট।
৩ উইকেট নেন শাহীন আফ্রিদিও। এই দু’জনে মিলেই ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের ইনিংস। তবে আফসোসের বিষয় হলো, তাদের বোলিং দেখেও শিখতে পারেননি টাইগাররা পেসাররা।
টাইগার পেসারদের হতাশ করে ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় দিন শেষ করে ১ উইকেটে ১৭৯ রানে। একমাত্র উইকেটটা নেন মেহেদী মিরাজ। ফেরান ইমাম উল হককে (৪৫)।
অভিষেকে শতরানের সম্ভাবনা জাগিয়ে ১৩৩ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন ২১ বছরের আজান আওয়াইস। ২৩ বছর বয়সী ফাজাল আব্দুল্লাহ অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে।
দুই অভিষিক্ত ব্যাটার যেভাবে খেলছেন, তাতে নিশ্চয়ই এতোক্ষণে দর্প চূর্ণ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের পেসারদের। আর তেমনটা হলেই ভালো হবে, ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে বের করবে তারা।
আর তেমনটাই চান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দ্বিতীয় দিনের হতাশা ভুলে বাংলাদেশ তৃতীয়- দিনে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, বিশ্বাস সহকারী কোচের। দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা টেস্ট ক্রিকেট, ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ আছে। আজকে আমরা এটা পুনরায় মূল্যায়ন করব, আসলে কোথায় বল করতে হবে এই উইকেটে, কোন জায়গায় করলে ব্যাটসম্যানকে আরো বেশি সমস্যায় ফেলা যাবে। আমি মনে করি, হয়তো আমরা কালকে আবার ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
এদিকে দারুণ ব্যাট করেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না পাকিস্তান। টেস্ট ক্রিকেট বলেই নাটকীয়তার আশা ছাড়ছে না তারা। তবে আজকের (তৃতীয়) দিন নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক তারা। ইমাম উল হক এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তিন দিন বাকি আছে এখনো এবং টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো যে এটা দ্রুত বদলাতে পারে। আমাদেরকে ধৈর্য রাখতে হবে। আগামীকালের (আজ) দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটিই বলে দেবে, ম্যাচ কোন পথে যাচ্ছে।’



