কেউ কথা রাখে না

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘জুলাই ঘোষণা’ বা রাষ্ট্র সংস্কার নামে সাংবিধানিক বিচারবিভাগীয় ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবি উত্থাপন করে, যার মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদ নির্মূল ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এসব দাবিদাওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে একটি জনবান্ধব সরকার গঠন। মানুষের কল্যাণে সব শ্রেণিপেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করা। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত হলেও সাধারণের ভাগ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, কেউ তাদের দেয়া ওয়াদা পূরণে আন্তরিক ছিলেন না। অথচ বেশির ভাগ দেশে মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলেও এ দেশে এর কোনোটি এখনো কেউ পূর্ণ করেননি। আজও কথা দিচ্ছেন, (অর্থাৎ লিপ সার্ভিস) কিন্তু সে কথা কেউ রাখেননি...

সালাহউদ্দিন বাবর
সালাহউদ্দিন বাবর |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

রাজনীতির আকাশের রঙ এখন যেন সকাল-বিকেল পাল্টাচ্ছে। সমাজ এবং রাষ্ট্র এখনো অসহিষ্ণু। আমরা কখনো রাজনীতির হাটে সওদা করি না, এর ব্যাকরণটা অনেকের মতো আমাদের কাছেও দুর্বোধ্য। দূরে দাঁড়িয়ে দেখে যাই, সবকিছুর ভেদ ও মারপ্যাঁচ সহজবোধ্য নয়। তাই এসব নিয়ে কিছু লেখা, কিছু বলা বিপদ ডেকে আনতে পারে। ক্ষমতাসীন দল সংসদের ভেতরে-বাইরে দুই সুরে কথা বলছে। এ নিয়ে নাগরিক সমাজ ভাবনায় নিমজ্জিত। অনেকে মনে করছেন, এটি কি ‘দলটির স্বরূপে প্রত্যাবর্তন; নাকি অন্য কিছু’। এ নিয়ে অনেকটা গোলকধাঁধায় পড়েছে আমজনতা। যেমন গুমের অর্ডিন্যান্সটি অনেকের ভাষায় সংসদ থেকে ‘ব্ল্যাক হোলে’ ফেলে দেয়া হয়েছে। এ বক্তব্যের পাদটীকা হচ্ছে– গুম, আয়নাঘর। অতীতের দুঃসহ স্মৃতি, ভীতিকর সব কাহিনী এখন অর্থহীন হয়ে পড়ছে। আবার একই সাথে সঙ্কটময় দিনের বিএনপির অন্যতম এক কাণ্ডারি পল্টনে সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেন গুম আইনের ফাঁকফোকর মেরামত করে এটি দ্রুত প্রণয়নের কথা। ক’দিন পর বিএনপির ওই নেতা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে জনদুর্ভোগের দ্রুত সুরাহা করতে হবে। কিন্তু স্মরণে রাখা ভালো যে, শুধু মুখের কথায় চিঁড়া ভেজে না। সরকারপ্রধান সম্প্রতি এক সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে, দৃঢ়ভাবে বলেছেন। অথচ ক’দিন আগে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। তারপর ওই মন্ত্রী জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেয়ার সময় বলেছেন, নির্বাচনের স্বার্থে তারা অনেক কথা সে সময় বলেননি। সংস্কারের ‘বাহানায়’ যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সে জন্য তারা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছিলেন। একই দলের প্রধান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্য এমন পরস্পরবিপরীত কথা বলছেন। এসব কথার রসায়ন বোঝা কঠিন। অন্য দিকে ইসলামী ব্যাংক দখলে ঘেরাও সমাবেশ নগরবাসী অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেছেন। এর আগে আইন করে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংককে সাবেক মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। আবার হঠাৎ করে সরকারি সংস্থা দুদক বৃহৎ এই ব্যাংকের অর্থপাচার নিয়ে তদন্তের কথা বলেছে। প্রকৃত অর্থে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন পরস্পরবিরোধী কথা ও কার্যক্রম দেখে-শুনে মানুষ হতভম্ব। কেউ বুঝতে পারছেন না, কোনটা মায়া। কোনটা কায়া।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপির ওপর এখন আর আস্থা রাখতে পারছেন না। এমন কথাকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। এর মর্মার্থ বুঝতে হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর রাজনৈতিক নিয়োগ, সংস্থার ও গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করাসহ নানা বিষয় উল্লেখ করেছেন। নাগরিক সমাজের এখন প্রশ্ন, দলটি কেন এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান দুর্বল করছে? নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে? জনগণও সংসদের ভেতরে বাইরে কথার পরম্পরা খুঁজে পাচ্ছেন না। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, এ দলের পূর্বসূরিদের মাঝে কখনোই এমন দ্বিচারিতা ছিল না। তাদের বক্তব্য ও রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ধরনের অস্পষ্টতা ছিল না। সঙ্গত কারণে এখনো ক্ষমতাসীন দলের পূর্বসূরি কিছু নেতা রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।

আমাদের দেশে রাজনৈতিক অনেক নেতা কথা দিয়ে কথা রাখেননি। কথা না রাখার দীর্ঘ ইতিহাস আছে এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে। কেউ আসলে কথা রাখার তাগিদ বোধ করেননি।

এটি কোনো নাটক বা উপন্যাসের সংলাপ নয়। একান্তই রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা এক রূঢ় বাস্তবতা। সেই সাথে বঞ্চিত মানুষের এই এক স্বগতোক্তি। পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতা-উত্তর ক্ষমতাসীনদের একাত্তর নিয়ে নানা বয়ান ছিল। তারা বলতেন, বাংলার রূপান্তর ঘটবে সোনার বাংলায়। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ এই আশ্বাসে নতুন এক স্বপ্নজাল বুনেছিল; কিন্তু স্বাধীনতার পর বছর ঘুরতে না ঘুরতে উপহার পেলেন ভয়াবহ এক দুর্ভিক্ষ। লাখো মানুষের প্রাণ গেল। তারপর বসল লুটপাটের হাট। এসব দেখে-শুনে এক বোদ্ধাজন (এস মুজিবুল্লাহ) পত্রিকায় এক নিবন্ধন লিখেছিলেন। সাড়া জাগানো সেই নিবন্ধের শিরোনাম ছিল, ‘ওলোট-পালট করে দে মা, লুটে পুটে খাই’। তাদের আরো প্রতিশ্রুতি ছিল, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সাম্য ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে; কিন্তু বাস্তবে সবই ছিল গরল। দেশে এলো একদলীয় বাকশাল। সেটি ছিল এক বন্দিশালা। একই সাথে জনগণের শেষ আশ্রয় আদালতের কণ্ঠ চেপে ধরা হয়। আজও আদালতকে পুরোপুরি কোনো সরকার অবমুক্ত করেনি। করার কোনো লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়। কারণ এ নিয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। অথচ এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অগণিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। মুক্ত আদালত না থাকার অর্থ– আগের সেই নির্যাতনের দিনগুলো ফিরে আসা। মুক্ত আদালতের মূল্য কত, অতীত দিনগুলোতে তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিল বর্তমান শাসক দল ও বিরোধী দল। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মুক্ত আদালতের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য।

(১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬) বিএনপি দু’বার সরকারে থাকাকালেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। এখনো আদালতের স্বাধীনতার বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের অনীহা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক দল বা জোট গঠনের রাজনীতি এবং আন্দোলনের শুরু সাম্প্রতিক বিষয় নয়। এসব আন্দোলন থেকে বহুবার বেশুমার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে; কিন্তু সেসব ওয়াদার কোনো সারবর্তা ছিল না। ১৯৫৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা সময়ে দল, জোট ও সরকার ক্ষমতা অর্জনের পর জন-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে নানা দফা উপস্থাপন করেছে। এগুলোর মধ্যে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, তত্ত্ববাবধায়ক সরকার, আদালতের স্বাধীনতার অঙ্গীকারের প্রত্যয় ছিল। শেষে দেখা গেছে, সবই অশ্বডিম্ব।

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা (১৯৫৪) : পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের কথিত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, কৃষক-শ্রমিক প্রজা পার্টিসহ অন্যান্য দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে একটি ইশতেহার প্রকাশ করে। সেখানে প্রধান দাবি ছিল, বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা। বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদার প্রথা উচ্ছেদ, পাট ব্যবসা জাতীয়করণ, শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যদূরীকরণ এবং পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন; কিন্তু দু-একটি বাদে জনবান্ধব তেমন কোনো কর্মসূচি ছিল না। সেখানে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ছিল উপেক্ষিত।

শেখ মুজিবুর রহমানের তথা আওয়ামী লীগের ৬ দফা : ৬ দফা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত, যা কার্যত স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে। সেখানে রাজনৈতিক বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা (১৯৬৯) : ১১ দফার বেশির ভাগ রাজনৈতিক দাবিদাওয়া। সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত।

শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের দাবি (সত্তরের নির্বাচন) : ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ দফার ভিত্তিতে ম্যান্ডেট চায়, যা পরে স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নেয়। এখানেও রাজনৈতিক বিষয়াদি প্রাধান্য পায়। স্বাধীনতাপরবর্তী মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এশাদবিরোধী আন্দোলন : একদফা (১৯৮৭-১৯৯০) : স্বৈরাচার এরশাদ পতনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি জোটসহ জামায়াত ও অন্যান্য দল একসাথে ‘এরশাদ হটাও’ একদফা আন্দোলন করে।

প্রধান দাবি : এরশাদ সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সংসদ ভেঙে দেয়া। এসব দাবিতে জনবান্ধব কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তি ছিল না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন : ৫ দফা (১৯৯৫-১৯৯৬) : আওয়ামী লাগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি মিলে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে এই ৫ দফা দেয়। এ আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা। এখানে শ্রমজীবী ও সাধারণের ভাগ্য উন্নয়নের কোনো কথা ছিল না।

সংস্কার ও দুর্নীতিবিরোধী দাবি (২০০৭-২০০৮) : সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে প্রধান দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার চেষ্টা ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি ওঠে, যা ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নামে পরিচিত। তাতে কেবল ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। লীগ ক্ষমতা পেয়েছে; কিন্তু জনগণের কোনো কল্যাণ হয়নি। অবশ্য ক্ষমতাসীনদের ভাগ্য বদল হয়েছে। আওয়ামী নেতাকর্মীদের শনৈঃশনৈঃ উন্নতি হয়েছে। বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে ফুলেফেঁপে ওঠেন তারা। সেই সাথে অপশাসনের সূচনা হয়, যা টানা সাড়ে ১৫ বছর ধরে চলেছে।

বিএনপি-জামায়াত ও বিরোধী জোটের ১০ দফা (২০২২-২০২৩) : আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি এসব দাবি উত্থাপন করে। প্রধান দাবি : সংসদ ভেঙে দেয়া, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এখানেও জনগণের জন্য অর্থপূর্ণ কোনো কথা ছিল না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা (২০২৪) : কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে পরে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এ আন্দোলন রূপ নেয়।

এক দফা : শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগ।

বিপ্লব-উত্তর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি (চব্বিশ থেকে বর্তমান) : চব্বিশের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘জুলাই ঘোষণা’ বা রাষ্ট্র সংস্কার নামে সাংবিধানিক বিচারবিভাগীয় ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবি উত্থাপন করে, যার মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদ নির্মূল ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এসব দাবিদাওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে একটি জনবান্ধব সরকার গঠন। মানুষের কল্যাণে সব শ্রেণিপেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করা। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত হলেও সাধারণের ভাগ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, কেউ তাদের দেয়া ওয়াদা পূরণে আন্তরিক ছিলেন না। অথচ বেশির ভাগ দেশে মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলেও এ দেশে এর কোনোটি এখনো কেউ পূর্ণ করেননি। আজও কথা দিচ্ছেন, (অর্থাৎ লিপ সার্ভিস); কিন্তু সে কথা কেউ রাখেননি।

লেখক : সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]