পুনঃতফসিলের আড়ালে ‘রাঘববোয়াল’ রক্ষা

ঋণ নবায়নের নামে বছরের পর বছর পার পেয়ে যান একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। ঋণ নবায়নের এ ধারাটি সবচেয়ে বেশি ছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ব্যাংক খাতের মাফিয়া হিসেবে চিহ্নিত এস আলম, বেক্সিমকো, শিকদার, নাসা গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ জনগণের আমানতের বিপুল অর্থ ঋণের নামে বের করে নিয়েছিল। কিন্তু ওই সব ঋণ কখনো কাগজে আদায় বা কোনো প্রকার ডাউনপেমেন্ট না দিয়ে ঋণ নিয়মিত করা হতো। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ আড়াল হয়ে যায়। এরপর নতুন করে আবার ঋণ নেয়া হয়। এভাবে কয়েকটি ব্যাংকের মূলধন শূন্যে নামিয়ে এনেছিল আর্থিক খাতের দুর্বৃত্তরা।

আশরাফুল ইসলাম
Printed Edition
  • রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
  • ঝুঁকিতে আর্থিক খাত

ঋণ নবায়নের নামে বছরের পর বছর পার পেয়ে যান একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। ঋণ নবায়নের এ ধারাটি সবচেয়ে বেশি ছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ব্যাংক খাতের মাফিয়া হিসেবে চিহ্নিত এস আলম, বেক্সিমকো, শিকদার, নাসা গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ জনগণের আমানতের বিপুল অর্থ ঋণের নামে বের করে নিয়েছিল। কিন্তু ওই সব ঋণ কখনো কাগজে আদায় বা কোনো প্রকার ডাউনপেমেন্ট না দিয়ে ঋণ নিয়মিত করা হতো। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ আড়াল হয়ে যায়। এরপর নতুন করে আবার ঋণ নেয়া হয়। এভাবে কয়েকটি ব্যাংকের মূলধন শূন্যে নামিয়ে এনেছিল আর্থিক খাতের দুর্বৃত্তরা। দেশের ব্যাংক খাত এভাবেই দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি ঋণ, অনিয়ম ও সুশাসনের সঙ্কটে ভোগে। তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে থাকে। একপর্যায়ে প্রকৃত খেলাপি ঋণ সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। কিন্তু ওই সব খেলাপি ঋণের একটি অংশ আবারো নীতিসহায়তার আওতায় নবায়ন হতে শুরু করেছে। যারা পতিত সরকারের আমলে ঋণ পরিশোধ না করে পার পেয়ে গিয়েছিল, তাদের কেউ কেউ আবারো নীতিসহায়তা নিয়ে খেলাপি ঋণের খাতা থেকে নিজেদের নাম বাদ দিতে পারছেন। এতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশের আর্থিক খাত।

ব্যাংকিং খাতে পুনঃতফসিল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও বড় ঋণখেলাপিরা এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছেন নিজেদের দায় এড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সাথে একই কাতারে সুবিধা পাচ্ছেন ইচ্ছাকৃত খেলাপিরাও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি-দুই ধরনের ব্যাংকেই পুনঃতফসিলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক মন্দা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সঙ্কট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং উচ্চ সুদের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাস্তব সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে কিছু বড় গ্রুপ বছরের পর বছর ঋণ পুনঃতফসিল করে যাচ্ছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এতে ব্যাংক খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা যেমন দুর্বল হচ্ছে, তেমনি আমানতকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোনো ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক সেই ঋণকে নতুন সময়সূচিতে পুনর্বিন্যাস করে। একে বলা হয় পুনঃতফসিল। সাধারণত ব্যবসা চালু রাখা, শিল্প রক্ষা এবং সাময়িক আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলার জন্য এই সুবিধা দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় পুনঃতফসিলের নীতিমালা শিথিল করেছে। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে কম ডাউনপেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ বাজারের অস্থিরতার কারণেও বিভিন্ন খাতে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়।

ব্যাংকাররা বলছেন, পুনঃতফসিল ছাড়া অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেত এবং কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা লাগত। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে তখনই, যখন একই ঋণগ্রহীতা বারবার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বাস্তবে ঋণ পরিশোধের কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুনঃতফসিলের পর কিছুদিন কিস্তি পরিশোধ করলেও পরে আবার ঋণখেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এরপর আবার নতুন করে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ফলে এটি এক ধরনের ‘চক্রে’ পরিণত হয়েছে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিনের ঋণখেলাপিরাই সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছোট উদ্যোক্তারা সামান্য বকেয়া থাকলেও কঠোর আইনি চাপের মুখে পড়েন। অন্যদিকে শত শত কিংবা হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা সহজেই পুনঃতফসিলের সুযোগ পান। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন এবং পরে সেই ঋণ পুনঃতফসিল করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যায়।

বেসরকারি ব্যাংকেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদ ও বড় গ্রাহকদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ঋণও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ‘নিয়মিত’ দেখানো হয়। এতে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে স্বস্তিদায়ক চিত্র দেখা গেলেও বাস্তবে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ কমতে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় গ্রাহকদের জন্য আলাদা সুবিধা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কঠোর নীতি, এই দ্বৈত ব্যবস্থা ব্যাংক খাতে বৈষম্য তৈরি করছে।

বিশেষ সুবিধা সাধারণত কয়েকভাবে দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে খুব কম ডাউনপেমেন্টে পুনঃতফসিল, সুদের একটি অংশ মওকুফ, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো, খেলাপি শ্রেণীকরণ সাময়িক স্থগিত রাখা, নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো ঋণ সমন্বয় করা এবং একই ঋণ একাধিকবার পুনঃতফসিল করা। অনেক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সার্কুলারের মাধ্যমে এই সুবিধা দেয়া হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিজস্ব ক্ষমতায় বড় গ্রাহকদের জন্য ছাড় দেয়।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের একটি অংশের অভিযোগ, অনেক সময় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের কারণে প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা যাচাই ছাড়াই ঋণ পুনঃতফসিল করতে হয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণও নিয়মিত হিসেবে দেখানো হয়। এতে ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি বাড়ে। পুনঃতফসিলের অন্যতম বড় সমালোচনা হলো-এটি খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে। কোনো ঋণ পুনঃতফসিল হওয়ার পর অনেক সময় সেটি আর খেলাপি হিসেবে গণনা করা হয় না। ফলে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান বাস্তবের তুলনায় ভালো দেখায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে ব্যাংকের প্রকৃত ঝুঁকি মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। বিদেশী বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সংস্থা এবং আমানতকারীরাও বিভ্রান্ত হতে পারেন।

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ ইতোমধ্যে কয়েক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে পুনঃতফসিল, অবলোপন এবং আদালতে স্থগিত থাকা ঋণ যুক্ত করলে প্রকৃত ঝুঁকি আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি আরো দুর্বল হবে। তাদের মতে, ব্যাংকের প্রধান ভিত্তি হলো আমানতকারীদের আস্থা। কিন্তু বড় ঋণগ্রহীতারা যদি বারবার বিশেষ সুবিধা পেয়েও ঋণ ফেরত না দেন, তাহলে ব্যাংকের নগদ প্রবাহে সঙ্কট তৈরি হয়। এতে সাধারণ আমানতকারীদের অর্থও ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে লোকসান বাড়লে সরকারকে মূলধন জোগান দিতে হয়। অর্থাৎ জনগণের করের টাকায় দুর্বল ব্যাংককে টিকিয়ে রাখা হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া এই সংস্কৃতি বড় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ‘নৈতিক ঝুঁকি’ তৈরি করছে। তারা মনে করছেন, প্রভাব থাকলে শেষ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া সম্ভব। ফলে ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলের অপব্যবহার সুশাসনের বড় সঙ্কেত। পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল নিরীক্ষা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমিত তদারকি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। অনেক ব্যাংকে পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণের অভিযোগও রয়েছে। পরে সেই ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নিয়মিত দেখানো হয়। এতে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আড়ালে থাকে। অতিরিক্ত পুনঃতফসিল ও বিশেষ সুবিধার কারণে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বাড়লে ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে সৎ উদ্যোক্তারাও বেশি সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন। ব্যাংকের বড় অংশের অর্থ যদি আটকে থাকে, তাহলে নতুন শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে।

দুর্বল ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে সরকার যদি অতিরিক্ত অর্থ জোগান দেয়, তাহলে বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীরাও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। এতে বিদেশী বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির মতো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সার্কুলার জারি করলেই হবে না; বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বড় ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত, স্বচ্ছতা এবং স্বাধীন নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা ও পরিকল্পিত খেলাপিদের আলাদা করে দেখারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ঋণ পুনঃতফসিল একটি প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা। কিন্তু এটি যদি নিয়মিতভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তাহলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আনা এবং সবার জন্য সমান নিয়ম নিশ্চিত করা। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কঠোর তদারকি ছাড়া ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরবে না। অন্যথায় পুনঃতফসিলের আড়ালে জমে থাকা ঝুঁকি এক সময় পুরো অর্থনীতির জন্য বড় সঙ্কটে রূপ নিতে পারে।