সিলেট টেস্টের প্রথম দিনটি লিটন দাসের

পাকিস্তানি বোলারদের তোপে আর নিজেদের ভুলে মাত্র ১০৬ রানে হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। সেখান থেকে দলকে ২৭৮ রানে পৌঁছান লিটন দাস।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লিটন দাস
লিটন দাস |সংগৃহীত

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনটা না বাংলাদেশের না পাকিস্তানের, পুরোটাই লিটন দাসের। জাদুকরী ব্যাটিংয়ে যেভাবে বিমোহিত করেছেন তিনি দর্শকদের, টেনে তুলেছেন দলকে— দিনটা তার নামে লিখে দিলে হয়তো ভুল হবে না।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেটে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে আর নিজেদের ভুলে মাত্র ১০৬ রানে হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। সেখান থেকে দলকে ২৭৮ রানে পৌঁছান লিটন দাস।

শেষ বিকেলে অবশ্য ৬ ওভার ব্যাট করতে পেরেছিল পাকিস্তান। তবে স্বাগতিকরা সায়াহ্নের সুবিধাটা নিতে পারেনি, ২১ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। দিনশেষে পিছিয়ে আছে ২৫৭ রানে।

সকাল সকাল ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম উইকেট হারায় ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই, আব্বাসের শিকার হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন রানের খাতা না খুলেই।

তবে মুমিনুলকে নিয়ে সেই ধাক্কা অনেকটা সামলে নিয়েছিলেন অভিষিক্ত তানজিদ তামিম। অভিষেকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তবে সেই আব্বাসকে মারতে গিয়ে বল তুলে দেন আকাশে।

সহজ ক্যাচ নিলেন বোলার নিজেই। ৩৪ বলে ২৬ রানে ফেরেন তিনি। তামিমের বিদায়ের পর পরই ফিরেছেন মুমিনুল হকও। দলকে ১৬ ওভারে ৬৩ রানে রেখে আউট হন ৪১ বলে ২২ করে। বিপদে পড়ে যায় দল।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম মিলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তাদের জুটিতে ১০১ রান নিয়ে যায় বিরতিতে। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে আবারো বড় ধাক্কা খায় টাইগাররা।

এবার মাত্র ১৫ রান তুলতে আরো ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম মিলে চেষ্টা করেন সব সামলে নিতে। তবে জুটি ৪৩ রানে পৌঁছুতেই হয় ছন্দ পতন।

বিরতির থেকে ফিরে ২৯ রান করে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আব্বাসের তৃতীয় শিকার হন তিনি। বড় হয়নি মুশফিকের ইনিংসও। খুররম শেহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শেষ হয় তার ২৩ রানের ইনিংস।

১১০ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর ফিরেন মেহেদী মিরাজও। শেহজাদের শিকার হন তিনি ৪ রান করে। মুহূর্তেই বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১১৬। লিটন মাঠে তখন ২ রান নিয়ে।

সেই ধংসস্তূপে দাঁড়িয়েই সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। তাইজুলের সাথে ৬০ ও তাসকিনের সাথে ৩৮ রানের জুটি গড়ার পর সেঞ্চুরি উদযাপন করেন শরিফুল ইসলামকে সাক্ষী রেখে। তাই উদযাপনেও ছিল ভিন্ন মাত্রা।

মাত্র ১৩৫ বলে লিটন পৌঁছান তিন অঙ্কে। শেষ পর্যন্ত দলের নবম ব্যাটার হিসেবে যখন থামেন তিনি, দলের রান তখন ৭৬.২ ওভারে ২৭৮। লিটন আউট হন ১৬ চার ২ ছক্কায় ১৫৯ বলে ১২৬ করে।

দলের রান ১০৬ থেকে ২৭৮ পর্যন্ত নেয়ার পথে লিটন যাদের সাথে পেয়েছেন, তাদের সম্মিলিত রান মাত্র ৪২! মুশফিক-মিরাজ ছাড়া বাকিদের মাঝে তাইজুল ১৬, তাসকিন ৭ ও শরীফুল করেন ১২* রান।

এতেই বোঝা যায় লিটনের ইনিংসটার মাহাত্ম্য কোথায়। টেস্টে এটা ছিল লিটনের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়। তার দুই বছর আগে করা পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি অবশ্য এর চেয়েও বিপর্যয়ের মুখে।

রাওয়ালপিন্ডিতে সেদিন ২৬ রানে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এরপর ১৩৮ রানের ইনিংসে লিটন টাইগারদের লড়াইয়ে রেখেছিলেন। সেই ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে ৬ উইকেটে। এবারো কি হবে তেমন কিছু?

উত্তর পেতে আরো চার দিন অপেক্ষা করতেই হবে। দেখতে হবে শেষ পর্যন্ত। তবে আশার খবর হলো বৃষ্টি শঙ্কা থাকলেও সিলেটে শনিবার বৃষ্টি প্রভাব ফেলতে পারেনি।