লিটন দাসকে একটা সময় মোনালিসা বলা হতো, বলা হতো তিনি ব্যাট হাতে ছবি আঁকেন বাইশগজে। সিলেটে তেমনি এক ছবি দেখা গেল তার ব্যাটে! যে ছবি দেখে অস্ফুটস্বরে মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে ‘অবিশ্বাস্য’।
অবিশ্বাস্যই বটে! ১০৬ রানে লিটন যখন ব্যাট হাতে নেমেছিলেন, তখন ৪ উইকেট নেই বাংলাদেশের। ২ রান করার পর দেখেন অন্যপ্রান্তে আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটার নেই, ইনিংস পরিণত হয় ধংসস্তূপে।
১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলটার পাশে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন। তাইজুলের সাথে ৬০ ও তাসকিনের সাথে ৩৮ রান যোগ করার পর সেঞ্চুরি করেন শরিফুল ইসলামকে সাক্ষী রেখে।
মাত্র ১৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেন লিটন। শেষ পর্যন্ত দলের নবম ব্যাটার হিসেবে যখন থামেন, দলের রান তখন ৭৭ ওভারে ২৭৮। লিটন আউট হন ১৬ চার ২ ছক্কায় ১৫৯ বলে ১২৬ করে।
দলের রান ১০৬ থেকে ২৭৮ পর্যন্ত নেয়ার পথে লিটন যাদের সাথে পেয়েছেন, তাদের সম্মিলিত রান মাত্র ৪২! এতেই বুঝা যায় লিটন কোথায় দাঁড়িয়ে তার ইনিংসটা সাজিয়েছেন।
টেস্টে এটা লিটনের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়। এর দুই বছর আগে করা পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি অবশ্য এর চেয়েও বিপর্যয়ের মুখে।
রাওয়ালপিন্ডিতে সেদিন ২৬ রানে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এরপর ১৩৮ রানের ইনিংসে লিটন টাইগারদের লড়াইয়ে রেখেছিলেন। সেই ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে ৬ উইকেটে।
আজকেও একটা সময় মনে হচ্ছিল হয়তো দেড় শ’ও পেরোতে পারবে না বাংলাদেশ। সেখান থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়েই আগ্রাসন ও নিয়ন্ত্রণের মিশেলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি। তার বিদায়ের ৩ বল পরই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। যোগ হয়নি আর কোনো রান।



