দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরালো বাংলাদেশ

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ সোমবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। মিরপুরে তুলে নিয়েছে ৬ উইকেটের জয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আজ ব্যাটে-বলে দারুণ করেছেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা
আজ ব্যাটে-বলে দারুণ করেছেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা |সংগৃহীত

এবার আর ভুল করলো না বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে সুযোগ দেয়নি টাইগাররা। দারুণ জয়ে সিরিজে ফেরালো সমতা। শেষ ম্যাচটা তাই রূপ নিলো অলিখিত ফাইনালে।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ সোমবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাইগাররা। মিরপুরে তুলে নিয়েছে ৬ উইকেটের জয়।

এদিন আগে ব্যাট করে সুবিধা করতে পারেনি কিউইরা, নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। জবাবে ৩৫.৩ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

বলের হিসাবে (৮৭ বল হাতে রেখে) ওয়ানডেতে এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ বল হাতে রেখে জেতে তারা।

রান তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ১৯৯ রানের সহজ লক্ষ্যটাও কঠিন হয়ে ওঠে ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে। প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথ ফেরান সাইফ হাসানকে (৮)।

সাইফের বিদায়ের পর তিনে আসেন সৌম্য সরকার। ৪ ম্যাচ পর একাদশে সুযোগ পেয়ে সদ্ব্যবহার করতে পারেননি তিনি। ১১ বলে ৮ রানে থামেন তিনি। চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

সেই চাপ বড় হতে দেননি তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে। উল্টো কিউই বোলারদের ওপর চাপ ঘুরিয়ে দেন দ্রুত গতিতে রান উঠিয়ে। জুটিতে দুজনে যোগ করেন ১১০ বলে ১২০ রান।

দুর্দান্ত এক ফিফটি তুলে ফেরেন তামিম। মাত্র ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নিয়ে থামেন ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৮ বলে ৭৬ রান করে। তবে ততক্ষণে দল পেয়ে গেছে জয়ের পথ।

তামিম আউট হলেও সেই পথ ধরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান শান্ত। ধীর ব্যাটিংয়ে তিনিও তুলে নেন ফিফটি। ওয়ানডেতে ১৩ ইনিংস পর পঞ্চাশে পৌঁছালেন তিনি।

তবে ফিফটি তুলে নিয়েই ক্রিজের পাশে শুয়ে পড়েন তিনি। বোঝা যাচ্ছিলো পায়ে চোট পেয়েছেন শান্ত। শেষ পর্যন্ত তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন ৭১ বলে ৫০ রান নিয়ে।

এরপর অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ (২৫ বলে ৮) এবং তাওহিদ হৃদয় (৩১ বলে ৩০) অপরাজিত থেকে জেতান দলকে। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩২ রানের জুটি দলকে পৌঁছে দেয় জয়ের বন্দরে।

এর আগে শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা মিলে চেপে ধরেন আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ডকে। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান তুলতে পারে তারা। দুইটি উইকেটই নেন নাহিদ রানা।

৮ম ওভারে বল হাতে এসেই ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। হেনরি নিকোলসকে (২৬ বলে ১৩) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন তিনি। পরের ওভারে তার শিকার উইল ইয়ং (৭ বলে ২)।

এই ধাক্কা সামলে নেয়ার চেষ্টা করেন টম লাথাম ও নিক কেলি। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়, লাথামকে ফেরান সৌম্য সরকার। ৩৫ বলে ১৪ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কিউই অধিনায়ক।

পঞ্চাশ পেরোতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ডের হাল ধরার চেষ্টা করেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। ৬৬ বলে ৫৬ রানের জুটিও গড়ে তুলেন তারা।

তবে ভয়ঙ্কর হওয়ার আগে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। মোহাম্মদ আব্বাসকে (৩৪ বলে ১৯) ফেরান তিনি। ২৯ ওভারে ১০৮ রানে ৪ উইকেট হারায় কিউইরা। ততক্ষণে অবশ্য পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছেন কেলি।

এরপর কেলিকে আর সমর্থন দিতে পারেননি কেউ। কেলি আউট হন দলকে ১৪৫ রানে রেখে ১০২ বলে ৮৩ করে। শরিফুলের শিকার হন তিনি। ৭ রান যোগ হতেই ক্লার্কসনকে (৬) ফেরান রিশাদ।

আর আগের ম্যাচের নায়ক ডিন ফক্সক্রফট ৩৫ বলে ১৫ রান নিয়ে নাহিদের চতুর্থ শিকার হন। ৪৫.৩ ওভারে জেডেন লেনক্সকে বোল্ড করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে শেষ দিকে ব্লেয়ার টিকনার ১২ রান করেন। ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন নাথান স্মিথ। রানা ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। সমান ৩২ রানে ২ উইকেট নেন শরিফুল।