লিটন দাস : দ্য ক্রাইসিস ম্যান!

লিটন দাস পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে আবারও বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন। টেলএন্ডারদের নিয়ে লড়াই করে দলকে এগিয়ে নেয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ ও উপভোগের বিষয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লিটন দাস
লিটন দাস |সংগৃহীত

সংখ্যার খেরোখাতায় আর যাই হোক, সব ইনিংসের মাহাত্ম্য মাপা যায় না। যেমন উপমা দেয়া যায় না পাকিস্তানের বিপক্ষে লিটন দাসের ইনিংসটার। অনেক ভালো ইনিংসের ভিড়ে এই শতকটা হয়ে থাকবে একটু বেশি স্পেশাল।

অবশ্য ইনিংসটাকে আলাদা করে দেখছেন লিটন দাসও। কারণও আছে। এমন ইনিংস যদিও নতুন নয়, এর আগেও বহুবার দলকে টেনেছেন তিনি। স্রোতের বিপরীতে লড়াই করেছেন- তবে ভিন্নতা আছে।

এই যেমন ২০২২ সালে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে ১৪১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে ভালো অবস্থা নিয়ে যান লিটন।

আবার এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল যখন বাংলাদেশ, তখন ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে লিটন খেলেছিলেন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।

তবে ২০২২ সালের সেই ইনিংসে সাথে পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিমকে, রাওয়ালপিন্ডিতে সাথী হয়েছিলেন মেহেদী মিরাজ। তবে সিলেটে তাকে লড়তে হয়েছে শরীফুল-তাইজুল-তাসকিনদের নিয়ে।

যা নিয়ে দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন লিটন নিজেই। বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার সাথে যে ইনিংসটা ছিল ওটা সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ মুশফিক ভাইয়ের সাথে জুটি ছিল। একজন ব্যাটার যখন আপনার পার্টনার থাকবে, মানিসকভাবে পরিস্কার থাকা যায়। রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ছিল, মিরাজ অনেকক্ষণ ইনিংস অলমোস্ট আমার ৮০ রানের মতো সাথে ছিল। ২০ রান আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। বাট আজকেরটা টোটালি ডিফারেন্ট।’

লিটন বলেন, ‘আমি মনে হয় যখন দুই বা তিন রানে তখন তাইজুল ভাই স্ট্রাইকে আসে। আমার টার্গেট ছিল যে রানটা কিভাবে বোর্ডে আসে। কারণ যে সময়টাতে তাইজুল ভাই আসছে আমাদের বোর্ডে রান মাত্র ১১০ কি সামথিং ১৬। হ্যাঁ, ১১৬। আমার টার্গেট ছিল যে কিভাবে টিমকে ২০০ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। অবশ্যই টার্গেট আমাকেই ফিলাপ করতে হবে। আমার টেল তো রান করবে না, রান আমাকেই করতে হবে। আমি চেষ্টা করেছি রান করার।’

বিপর্যয়ের মাঝেও ১২৬ রানের ইনিংসটা তিনি খেলেছেন টেলএন্ডারদের বাঁচিয়ে, পুরো দায়িত্ব মাথায় নিয়ে। কখনো দেখা গেছে ওভারের ৫ বল খেকে কেবল শেষ বলে রান নিয়েছেন তিনি।

এই নিয়ে একটু মশকরাও করলেন লিটন সংবাদ সম্মেলনে। এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রসিকতা করে বললেন, ‘একজনকে ৬ বল খেলতে দিয়েছিলাম, সে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছে। এরপর আমি আরো সতর্ক হয়ে গেছি, আমারই খেলা লাগবে।’

অনেক কথার ভিড়ে লিটন জানান, বিপর্যয়ে দলকে প্রত্যাশিত ঠিকানায় পৌঁছে দেয়াই তার আনন্দ। সেই সাথে বলেন, ‘ক্রিকেটটাই এমন। যখন যে সময়টা আসবে, সে সময়টা উপভোগ করে খেলতে হবে। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু উপভোগ করার অনেক কিছু আছে।’