অ্যাপলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, বিদায় নিচ্ছেন কুক

২০১১ সালে যখন কুক দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন অনেকেই সংশয়ে ছিলেন। কিন্তু সেই সংশয় উড়িয়ে দিয়ে অ্যাপলকে এক ট্রিলিয়ন থেকে চার ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অ্যাপলের লোগো
অ্যাপলের লোগো |সংগৃহীত

টিম কুক দীর্ঘ ১৫ বছরের এক রাজকীয় ইনিংস শেষ করে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর (সিইও) আসন থেকে এবারে সরে দাঁড়াচ্ছেন। টেক দুনিয়ার এই মহীরুহের ব্যাটন এবার যাচ্ছে জন তারনাসের হাতে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপলের নতুন প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করবেন বর্তমানে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে থাকা তারনাস।

কুক অবশ্য একেবারে বিদায় নিচ্ছেন না। তিনি থাকছেন কোম্পানির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে। বিদায়বেলায় নিজের উত্তরসূরিকে ‘ভিশনারি’ উপাধি দিয়ে কুক জানান, তারনাসের ভেতর একজন ইঞ্জিনিয়ারের মস্তিস্ক আর উদ্ভাবকের ‘আত্মা’ মিশে আছে।

স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে যখন কুক দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন অনেকেই সংশয়ে ছিলেন। কিন্তু সেই সংশয় উড়িয়ে দিয়ে অ্যাপলকে এক ট্রিলিয়ন থেকে চার ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করেছেন তিনি। তবে এবার সময় এসেছে ডানা বদলের।

কুকের জমানা ও নতুন চ্যালেঞ্জ

টিম কুক অ্যাপলকে টাকার পাহাড়ে বসিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু একটা খোঁচা তাকে সব সময়ই সইতে হয়েছে। সমালোচকদের মতে, কুক ছিলেন নিখুঁত একজন ‘অপারেশনস ম্যান’। তিনি লজিস্টিকস আর হিসাব-নিকাশ ভালো বুঝতেন, কিন্তু স্টিভ জবসের মতো জাদুকরী কোনো নতুন পণ্য উপহার দিতে পারেননি।

আইফোনকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খেয়েছে অ্যাপলের ভাগ্য। ফোরস্টার অ্যানালিস্ট দিপাঞ্জন চ্যাটার্জি মনে করেন, কুকের জমানায় মুনাফা চারগুণ বাড়লেও উদ্ভাবন থমকে ছিল। তাই তারনাসের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইফোনের সেই চিরচেনা বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু করা। বিশেষ করে ফোল্ডেবল ফোন কিংবা স্মার্ট চশমার মতো দারুণ কিছু নিয়ে আসার চাপ এখন তারনাসের কাঁধে।

তারনাস কি পারবেন সেই জাদু দেখাতে?

গত ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সাথে আছেন জন তারনাস। আইপ্যাড, আইফোন থেকে শুরু করে এয়ারপডস- সবকিছু তৈরিতেই তার হাত রয়েছে। এমনকি ইনটেল বাদ দিয়ে অ্যাপলের নিজস্ব সিলিকন চিপে ফেরার কঠিন কাজটিও তিনিই সামলেছেন। ওপেন এআই-এর স্যাম অল্টম্যান টিম কুককে একজন ‘লিজেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে অ্যাপল যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে অন্যদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে, তা নিয়েও কথা উঠছে। মেটা বা গুগলের মতো এআই নিয়ে ঝাঁপিয়ে না পড়লেও, নতুন বস আসার পর অ্যাপল হয়তো তাদের হার্ডওয়্যারের সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরো গভীর মেলবন্ধন ঘটাবে।

রাজকীয় বিবর্তন ও ভবিষ্যৎ

টিম কুক আগামী কয়েক মাস তারনাসকে এই বিশাল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে সাহায্য করবেন। এরপর তিনি বিশ্বজুড়ে নীতি-নির্ধারকদের সাথে যোগাযোগের মতো বিশেষ কাজগুলো দেখাশোনা করবেন।

ইউনিভার্সিটি অব নটরডেমের অধ্যাপক টিমোথি হাবার্ডের মতে, অ্যাপল এত দিন কোনো সিস্টেমকে রক্ষা করতে আর তার বিস্তার ঘটাতে পটু ছিল। কিন্তু এখনকার দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে আরো দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর নতুন কিছু করার সাহস দেখাতে হবে। তারনাস আসায় সেই হারানো দিনের উদ্ভাবনী পাগলামি ফিরে আসবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ১৫ বছরের এক স্থিতধী অধ্যায় শেষ করে অ্যাপল এখন এক রোমাঞ্চকর ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি