কূটনৈতিক প্রতিবেদক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সাহেব, আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তার একান্ত সচিব ছিলাম। তিনি দুই পদেই (পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি) পূর্ণকালীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। তখন ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে নিরবচ্ছিন্নভাবে দু’টি দায়িত্বই একসাথে পালন করা সম্ভব। এটি এখন খুবই স্বাভাবিক।
গতকাল নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকা ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সকালে খলিলুর রহমান ঢাকা পৌঁছালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
গত ২ জুন জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আট ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান।
এই নির্বাচনের আগে গত ১৩ মে নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থীদের মধ্যে জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সংলাপ হয়। এতে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চেয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, পদত্যাগই একমাত্র বিকল্প নয় বরং তিনি ছুটিতেও যেতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন যে পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদটি গ্রহণের জন্য তাকে এক বছরের জন্য রেহাই দেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকে বলেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। আসলে বিষয়টি হলো- তিনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন। তার দল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেননি।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় খলিলুর রহমান বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। এই বিজয় প্রধানমন্ত্রীর বিজয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়, অবিচল ও বিরোধহীনভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তাহলে ১০ বছরের এই পথ ১০ সপ্তাহে আমরা অতিক্রম করতে পারতাম না। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা এবং বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরতরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা- আমরা টিম স্পিরিট নিয়ে কাজ করেছি। এই বিজয়ের পেছনে তাদের বিপুল অবদান ছিল। এই বিজয় আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় এই অভিনন্দন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গৌরব, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং বহুপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি আস্থার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গতকাল সকালে নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকায় ফিরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।



