বিজয়ের ধ্বনি চার দিকে

Printed Edition
বিজয়ের ধ্বনি চার দিকে
বিজয়ের ধ্বনি চার দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

একের পর এক মুক্ত হতে থাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল। চার দিকে বিজয়ের ধ্বনি ওঠে। শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের পর্ব। ৬ ডিসেম্বর যশোর থেকে পাকিস্তানি সেনারা বিদায় হয়ে যায়। কিন্তু যশোর মুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয় আজ ৭ ডিসেম্বর সকালে। সিলেট মুক্ত হয় বিকেলে। পাকিস্তানি বাহিনীর বহু সেনা আত্মসমর্পণ করে এখানে। সকালে পাকিস্তানি বাহিনী সুনামগঞ্জ থেকে পিছু হটে। বিনাযুদ্ধে মুক্ত হয় সুনামগঞ্জ। মৌলভীবাজারও মুক্ত হয় এ দিন। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সাথে কালেঙ্গায় পাকবাহিনীর প্রচণ্ড লড়াই হয়। পাকিস্তানি সেনারা অবস্থান থেকে পিছু হটে। মুক্ত হয় গৌরিপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, চরখা, ছাতক, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, লালমনিরহাট, ঝিনাইদহসহ বহু এলাকা।

ভারতের পথ ধরে প্রতিবেশী দেশ ভুটানও ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এ দিকে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় পাকিস্তান সরকার ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার জিওসি লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজির পরামর্শে গভর্নর ডা: এম এ মালিক জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর জরুরি বার্তা পাঠান। যুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণে, পাকিস্তান নিশ্চিত পরাজয় দেখতে পায় এবং জাতিসঙ্ঘের কাছে মধ্যস্ততার সুপারিশ করে এবং ভারতকে যুদ্ধবিরতিতে যেতে চাপ দেয়। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধবিগ্রহ বিষয়ে আলোচনায় বসে। দীর্ঘ আলোচনার পর ৭ ডিসেম্বর জাতিসঙ্ঘ ‘তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং সেনা প্রত্যাহার’ অধ্যাদেশ জারি করে। যখন সংখ্যাগরিষ্ঠরা সমর্থন জানায়, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই অধ্যাদেশে দুইবার ভেটো দেয় এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এই অধ্যাদেশ থেকে বিরত থাকে।

এ দিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুহার্তো প্রস্তাব দেন যদি ভারত ও পাকিস্তান অনুরোধ করে তাহলে দুই দেশের মধ্যে তিনি মধ্যস্থতা করতে রাজি আছেন। বিশ্বের বহু দেশ এ প্রস্তাবে সায় দেয়। যা হোক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বে যতই উদ্বেগ বাড়তে থাকে বিজয়ও তত ঘনিয়ে আসতে থাকে। বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে শত্রুমুক্ত হওয়া অনেকটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।