কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ঢাকায় কমর্রত ৩০টি দেশের কূটনীতিকরা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। গত মঙ্গলবার দুই ঘণ্টার পরিদর্শনের শুরুতে বিদেশী কূটনীতিকরা গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তারা জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রতিনিধিদলের সাথে ছিলেন। সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের মূল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করেন। জুলাই জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব কূটনীতিক ও অতিথিদের কাছে জাদুঘরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাদুঘরটি শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের প্রতিফলন। এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের ক্লাইম্যাক্স প্রদর্শন করে। পাশাপাশি এ জাদুঘর বছরের পর বছরের দুঃশাসনের উপাদানগুলোও তুলে ধরে। ইতিহাসের আসল পাঠ হলো দুঃশাসনের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা।
ফারুকী বলেন, জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পেছনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশে এ ধরনের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা। জাদুঘরটি অন্যান্য দেশের অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ইতিহাস বোঝা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিভাবে বিপ্লব ঘটে এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার অনুপ্রেরণা এবং শক্তি জাদুঘরটি স্মরণ করিয়ে দেয়। জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পেরে আমি আনন্দিত।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্টিয়াগা, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলুয়াহাব সাইদানি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সিসা, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি, মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি, ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী, ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উইসাম হুসেইন আলী আল ইথাভি, কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুল মুতালিব এস এম সুলিমান, মরক্কোর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বৌচাইব এজ জাহরি, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান, সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার মনিকা শি, চীন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউয়িন, জাপান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব আওয়াগি ইউসহ বহুজাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা।



