নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে পবিত্র হজ পালন করে এসেছি। সেখানে প্রবাসীরা জিজ্ঞাস করছেন আমরা রেমিট্যান্স পাঠাবো কি না। আমি বললাম কেন আপনার পরিবার আছে না? অবশ্যই পাঠাবেন। তারা বলছেন কার কাছে পাঠাবো? যদি চুরি হয়ে যায়? তারা কোনো আস্থা পাচ্ছেন না। বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রবাসীরা যদি রেমিট্যান্স পাঠাতে ভয় পান তাহলে দেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়বে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দুর্বৃত্তপনার দিকে যাবেন না।
গতকাল রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ার মেহফিল কনভেনশন সেন্টারে কাফরুল পশ্চিম থানা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একজন ঋণখেলাপি ছিলেন। তিনি একটি গার্মেন্ট চালাতে গিয়েই ঋণখেলাপি হয়ে গেলেন। অথচ তাকে দলীয় বিবেচনায় পুরো ব্যাংক সেক্টরের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের যাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে তার স্ত্রী একজন ঋণখেলাপি। আর তার স্বামীকে চেয়ারম্যান বানানো হলো। এ দু’জনকেই অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। সেখানে সৎ, যোগ্য বক্তিদের নিয়োগ করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে, অন্যরা কোন দেশে যাবে তা জানি না। আমরা এটা চাই না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশু রামিসার ওপর কী নির্যাতন হয়েছে তা আমরা দেখেছি। সারা দেশেই একই অবস্থা।
শরিয়তের আইন নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আল্লাহর বিধানের প্রতি সুস্পষ্ট বিরোধিতা। মনে হয় যেন শরিয়া আইন হলে সবার হাত কেটে দেয়া হবে। তিনি সৌদি আরবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে খবর নিয়ে জেনেছি সেখানে গত ২০ বছরেও চুরির জন্য কারো হাত কাটতে হয়নি। বরং এ আইন রাখা হয়েছে যাতে চুরি কমে যায়।
সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা না নেয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা মেনে চলছি। শুধু একটি বিষয় মাসিক সম্মানিটা নিতে হচ্ছে। তাও আমার আসনের একটি কওমি মাদরাসায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য দিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এমনভাবে সিস্টেম করা হয়েছে যাতে তাদের কোথাও দৌড়াতে হচ্ছে না। এটা অটো চলে আসছে।



