জিয়াউর রহমান হত্যা

পাহাড়ে নিয়ে লাশ দাফন করেন মোজাফফর

জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার পর মোজাফফরকে খুনিরা নির্দেশ দিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের লাশ পাহাড়ে ফেলে দিতে। তবে তিনি লাশ ফেলে না দিয়ে একটি পাহাড়ে দাফন সম্পন্ন করেন। পরের দিন আরেক মেজরকে নিয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক মেজর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেন চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজেই ছিলেন। জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার পর মোজাফফরকে খুনিরা নির্দেশ দিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের লাশ পাহাড়ে ফেলে দিতে। তবে তিনি লাশ ফেলে না দিয়ে একটি পাহাড়ে দাফন সম্পন্ন করেন। পরের দিন আরেক মেজরকে নিয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার সাথে যিনি গিয়েছেন ওই মেজর একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেছেন, তিনি সেদিন চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজেই ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হবে তা তিনি জানতেন না।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর (অব:) মোজাফফর হোসেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের একমাত্র জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী। তার দেয়া তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেদিনের ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনই তদন্ত সংস্থার লক্ষ্য।

ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর চট্টগ্রামে যেখানে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে এবং দাফন সম্পন্ন করা হয় সেই ঘটনাস্থলে নেয়া হয়। এরপর গত রোববার রাতে তাকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ওই সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মোজাফফর হোসেনকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়। ১৬ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে ঢাকার বনানী ডিওএইচএস থেকে গ্রেফতার করে।

এ দিকে মোজাফফরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে অনেক অমীমাংসিত অধ্যায়ের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। জিয়া হত্যায় মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল এবং প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, সেই সাথে তার দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের রহস্যে ঘেরা আত্মগোপন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সূত্রগুলোর দাবি ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে, এই দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে দেশেই অবস্থান করছিলেন। পুলিশের খাতায় ছিলেন মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। মৃত্যুপরোয়ানা মাথায় নিয়ে ফাঁকি দিয়ে আসছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে ধরা পড়ার পর তিনি নিজেই জানিয়েছেন দীর্ঘ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার নানা কৌশলের কথা। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি দেশেই অবস্থান করছিলেন। দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে কয়েক বছর ধরে তিনি ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলো পরিবারের সাথে কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার।