নয়া দিগন্ত ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন- সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো: রাব্বিলের ছেলে আবদুল্লাহ; শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আবদুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণ পাড়ার ফিটু আলী ছেলে মো: মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম ও গোসাইপুর গ্রামের মো: শফিউলের ছেলে হাসান আলী (লালু)।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, শিবগঞ্জের তিনজনই মারা গেছেন বাড়িসংলগ্ন আমবাগানে। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে মারা যান তাঁরা।
ওই তিন পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
এ দিকে সদর থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, সদর উপজেলার আতাহারে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গরু আনতে যায় আবদুল্লাহ (১৭)। এ সময় বজ্রপাতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় মানুষরা তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বজ্রপাতে গরুটিও মারা যায়।
নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, উপজেলার লাহপাড়ায় মাঠে ঘাস কেটে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময় সুমিয়ারা বেগম বজ্রপাতে মারা যান। এ ছাড়া গোসাইপুর গ্রামের হাসান আলী নামের এক তরুণ আমবাগানে বজ্রপাতে মারা গেছেন।
মুক্তাগাছায় কলেজশিক্ষক নিহত
ময়মনসিংহ অফিস ও মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বজ্রপাতে এ এস এম খালেকুল আজাদ (৫২) নামে এক সহকারী অধ্যাপক নিহত হয়েছেন। তিনি গাবতলী ডিগ্রি কলেজে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাড়ি উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামে বাবার নাম মৃত হাজী ইউসুফ আলী। গতকাল বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌয়ারচর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি গতকাল নিজ গ্রামে মসজিদ নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বৃষ্টির সাথে আকস্মিক বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় অন্যরা নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও তিনি পাশের এক আম গাছের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি বজ্রাঘাতে পাশের পুকুরে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সায়েম তানভীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আদমদীঘিতে কিশোরের মৃত্যু
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার আদমদীঘিতে বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়া গ্রামের পাশে একটি মরিচ ক্ষেতে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। রাব্বি হোসেন উপজেলা সদরের তেঁতুলিয়া গ্রামের আফাল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাব্বি হোসেন ও তার মা মনিকা বেগমসহ বেশ কয়েকজন গ্রামের পাশে মাঠে একটি মরিচ ক্ষেতে কাজ করছিল। এ সময় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহত মনিকা বেগমকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামে বজ্রপাতে শান্ত (২৮) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নাহিদ নামের আরেক যুবক আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঝড়বৃষ্টির মধ্যে দু’জনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শান্ত আলমডাঙ্গা উপজেলার নান্দবার গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
নিহতের এক স্বজন জানান, সন্ধ্যার আগে ঝড়ো হাওয়ার সময় নাহিদ শান্তসহ কয়েকজন যুবক বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে পাশেই একটি গাছে আগুন লাগে। ঠিক এই মুহূর্তে দু’জনই বজ্রঘাতে আহত হয়। পরে দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে শান্তকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বজ্রপাতে মো: রবিউল আলম (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরেক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তীব্র তাপপ্রবাহের পর হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রবিউল আলম। তিনি নিজপাড়া এলাকার নূরুল হকের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিউল আলম প্রতিদিনের মতো বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন। আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি আর রক্ষা পাননি।
একই সময়ে উপজেলার শোভনগঞ্জ বালাপাড়া এলাকার মো: জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা: সেরিনা বেগম (৪০) বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।



