রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। বন্দর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও রিস্ক ফার্মগুলো জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে পারস্য উপসাগরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ উড়ে আসা বস্তুর বিস্ফোরণে তিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার রাতে ইরাকের নৌসীমায় দু’টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে বিস্ফোরক ভর্তি কয়েকটি নৌকা, এতে নৌযান দু’টিতে ব্যাপক আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
সর্বশেষ যে জাহাজগুলোতে হামলা হয়েছে সেগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক আছে। এতে ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর যুদ্ধ আরো তীব্র হবে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সঙ্কীর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রায় স্থবির হয়ে আছে। বিশ্বের তেল সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। এই সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব বাজারে দেখা দেয়া উদ্বেগের মধ্যে তেলের মূল্য এত বাড়তে শুরু করেছে যা ২০২২ সালের পর থেকে আর দেখা যায়নি।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বলেছে, ইরানে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের অংশীদার দেশগুলোতে ‘এক লিটার তেলও’ সরবরাহ করতে দেবে না। ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানিতে বাধা দিলে দেশটিতে কঠিন আঘাত হানা হবে। তিনি আরো বলেছেন, ‘(ইরানে) নৌবাহিনী প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় তেল কোম্পানিগুলোর এই প্রণালীটি ব্যবহার করা উচিত।’
বুধবার গভীর রাতে ইরাকের কাছে পারস্য উপসাগরে যে ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো একটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজ সাফেসিয়া বিঞ্চু ও অপরটি মাল্টার পতাকাবাহী জেফিরোস।



