আলজাজিরা
ক্যারিবীয় সাগরে ভেনিজুয়েলার সাথে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, ভেনিজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে আটক হওয়া ষষ্ঠ ট্যাংকার।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন কোস্টগার্ড তেল ট্যাংকার ভেরোনিকাতে উঠে সেটি জব্দ করে। তার ভাষ্য, জাহাজটি এর আগে ভেনিজুয়েলার জলসীমা অতিক্রম করেছিল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের ওপর কোয়ারেন্টিন অমান্য করে চলাচল করছিল।
এই অভিযানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-এ অবস্থানরত নৌসেনা ও মেরিন সদস্যদের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ কৌশলগত দল অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। ‘ভেরোনিক’ ট্রাম্পের সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আটক হওয়া ষষ্ঠ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকার, যেখানে তিনি ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন, পরিশোধন ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথা বলেছেন। এটি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কারাকাসে এক সামরিক অভিযানে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা চতুর্থ জাহাজ।
বৃহস্পতিবার ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ পার্লামেন্টে জানান, দেশের তেল খাত পরিচালনাকারী আইনে সংস্কার আনা হবে। বিদ্যমান হাইড্রোকার্বন আইনসহ বিভিন্ন বিধানে ভেনিজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। সংস্কারের বিস্তারিত না জানালেও রদ্রিগেজ বলেন, এতে তথাকথিত অ্যান্টি-ব্লকেড আইনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা ২০১৯ সাল থেকে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়। রদ্রিগেজের ভাষায়, প্রস্তাবিত আইনি সংস্কারের ফলে অর্থ আসবে নতুন তেলক্ষেত্রে, যেখানে আগে কখনো বিনিয়োগ হয়নি এবং এমন ক্ষেত্রেও যেখানে কোনো অবকাঠামো নেই। তেল থেকে অর্জিত অর্থ শ্রমিকদের ও জনসেবামূলক খাতে ব্যয় করা হবে। মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ভেনিজুয়েলার তেল খাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দেশটির বিপুল তেল মজুত দখল করাই ভেনিজুয়েলা ও তার নেতার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
গত সপ্তাহে তেল খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, এখন আপনারা সরাসরি আমাদের সাথে লেনদেন করবেন, ভেনিজুয়েলার সাথে নয়। আমরা চাই না আপনারা ভেনিজুয়েলার সাথে কোনোভাবে কাজ করুন। বিশ্বের মোট তেল মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভেনিজুয়েলার দখলে। এক সময় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের বড় সরবরাহকারী ছিল।



