সিলেট ব্যুরো
ওরা সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের ১০ সদস্য। সবার বয়স ১৫ থেকে ২০ এর মধ্যে। প্রবাসী ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানকে টার্গেট করে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে গত ৮ মার্চ পুলিশের জালে ধরা পড়ে উঠতি বয়সী এই অপরাধীরা।
বন্ধুদের সাথে আড্ডার ছলে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে বলে রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দিয়েছে অপরাধীরা। তিন দিনের রিমান্ড শেষে অপহরণের সাথে জড়িত ১০ কিশোরকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফের সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
এর আগে ১৫ মার্চ সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শুনানি শেষে আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে প্রত্যেককে থানার একটি কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সবাই নিজেদের শিক্ষার্থী হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি তারা অপহরণ চক্রের সদস্য নয় বলে পুলিশকে জানায়।
তবে আসামিদের মধ্যে একজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে জানায়, আমরা বন্ধুরা আড্ডার ছলে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ি। তবে এর আগে কেউ কোনো অপরাধের সাথে কোনো দিনই জড়িত ছিলাম না।
৮ মার্চ সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামে ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ১০ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার হাজী বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহিদ আহমদ (৪২) নামে আরেক প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়।
এরআগে ওই বাসায় জিম্মি ছিলেন সুহেল সরকার (২২) নামে আরেক যুবক। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- সিলেটের মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর এলাকার সেলিম আহমদ ও জান্নাত আরা নাজুর ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), উপশহর বি ব্লকের ১৫নং রোডের ১৫নং বাসার মো: মোক্তাদির ও রনি বেগমের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার মণ্ডলপুর গ্রামের মো: ফয়জুল করিম ও মোছা: শেফা বেগমের ছেলে বর্তমানের নগরীর হাওয়াপাড়া ৫৬নং বাসার বাসিন্দা জুবাইর আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর গ্রামের আব্দুল মন্নান ও আসমা খানমের ছেলে বর্তমানে নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়া মোহিনী ১০২/৩০নং বাসার বাসিন্দা সুফিয়ান আহমদ (১৯), এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার ৬৪/১নং বাসার মো: আনোয়ার মিয়া ও রোকেয়া বেগমের ছেলে মো: জাকির হোসেন (১৯), কাজীটুলা বিহঙ্গ-৭০নং বাসার আবুল হোসেন ও শেওলা বেগমের ছেলে মো: মারজান (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার রায়সত্তরপুর গ্রামের মো: সুজন মিয়া ও মোছা: স্বপ্না বেগমের ছেলে বর্তমানে নগরীর হাউজিং এস্টেটের বর্ণী-৪২নং বাসার বাসিন্দা মোসাদ্দেক আলী (১৮). হাওয়াপাড়া দিশামরী ৮১নং বাসার রুমান আহমদ ও মুন্নি আক্তারের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার মো: রতন ও কবিতা খানমের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) হাওয়াপাড়া দিশারী-৪৪নং বাসার মানিক মিয়া ও জোস্না বেগমের ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকায় থেকে সুহেল সরকার (২২) নামে এক যুবককে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাস নামে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে অপহরণকারীরা ধারালো চাকু ও কেঁচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। একই সাথে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তারা তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হলে তিনি বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানাকে জানান। অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজতে থাকা আরেক ভুক্তভোগী প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) উদ্ধার করা হয়।



