এএফপি
দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালে সরকার পতনের পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথম ভারত সফরে গেছেন নেপালের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান রবি লমিছানে। এ সময় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে যাননি নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক র্যাপশিল্পী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তুলনামূলক নীরব রয়েছেন। নেপালে নিযুক্ত কয়েকজন বিদেশী দূতের সাথে সাক্ষাৎও এড়িয়ে চলছেন তিনি। যদিও বালেন্দ্র শাহের সহযোগীরা জানান, অর্থনীতিসহ দেশের নানা অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মনোযোগ দিতে তিনি ক্ষমতার প্রথম এক বছরে বিদেশ সফরে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভারতে এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফরে গেছেন রবি লামিছানে। তিনি নেপালের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সভাপতি। বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে গত মার্চের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ বিজয় পায়।
সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক লামিছানে এখনো ক্ষমতা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আরএসপির মুখপাত্র মনীশ ঝা এএফপিকে জানান, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিন কোটি জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত হিমালয় ঘেরা রাষ্ট্র নেপাল। দেশটিকে প্রতিবেশী দুই পরাশক্তি ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেপালকে ঐতিহ্যগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের সমতল অঞ্চলে রয়েছে উন্মুক্ত সীমান্ত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত। দেশটির মোট আমদানির ৬৩ শতাংশ বা ৮৬০ কোটি ডলার আসে ভারত থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, যার অংশ ১৩ শতাংশ বা ১৮০ কোটি ডলার।



