ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৭৯ গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসের সফলতম স্কোরার নেইমার জুনিয়র। ফুটবল বিশ্বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের দুই তারকা হলেও ক্লাব ফুটবলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় চার বছর ও ফ্রান্স লিগ ওয়ানের দল পিএসজিতে দুই মৌসুম এক সাথে খেলেছেন দু’জন। সেই সুবাদে খুব কাছ থেকে একে অপরকে চেনেন তারা। আগামী জুন মাসের ১১ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডায় যৌথভাবে শুরু হবে ফুটবলের মেগা আসর বিশ্বকাপ। সেই আসরে খেলা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছেন নেইমার। কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি বেশ ক’বারই বলেছেন, শতভাগ ফিট হতে পারলেই কেবল তাকে নেয়া হবে বিশ্ব আসরে। তবে সান্তোসের রাজপুত্রের সাথে বন্ধুত্ব যে কতটা গাঢ়, তার প্রমাণ আরো একবার রাখলেন মেসি। ইন্টার মিয়ামির আর্জেন্টাইন তারকা বলেছেন, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে নেইমারকে ব্রাজিল দলে দেখতে চান তিনি। এই চাওয়ার পেছনে একটা কারণ নেইমারের সামর্থ্য।
সম্প্রতি পোলো আলভারেজের পডকাস্ট ‘লো ডেল পোলো’তে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমারকে নিয়ে নিজের আবেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন মেসি। চোট আর ফর্মহীনতায় দীর্ঘ সময় ব্রাজিল জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমারকে নিয়ে মেসি বলেন, আমরা সব সময় চাই সেরা খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে থাকুক। নেইমার এখন কোন ফর্মে আছে, সেটি বড় কথা নয়, সে সব সময় সেরাদের একজন হিসেবেই গণ্য হবে।
কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে জায়গা হবে কি না- নেইমার যখন এমন অনিশ্চয়তায়, তখন মেসি তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, নেইমার আমার খুব ভালো বন্ধু। আমি অবশ্যই তাকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই। মানুষ হিসেবে সে যেমন চমৎকার, তাতে তার সাথে সব সময় ভালো কিছু হওয়া উচিত। সে সেখানে (বিশ্বকাপে) থাকুক, এটি আমি মনেপ্রাণে চাই।
পডকাস্টে আলাপকালে মেসি বললেন, এবারের বিশ্বকাপে তারা ফেবারিট নয়। নিজেদের চেয়ে বরং অন্য কয়েকটি দলকে এগিয়ে রাখছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। গত বিশ্বকাপে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে উল্লাসে মেতে ছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সসহ আরো কয়েকটি দলের এবার ভালো সম্ভাবনা দেখছেন মেসি। তিনি বলেন, আমাদের মেনে নিতে হবে যে, আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা আরো দল আছে।
মেসি আরো বলেন, এ মুহূর্তে আবারো ফ্রান্সকে খুব ভালো দেখাচ্ছে। তাদের দলে উঁচুমানের অনেক খেলোয়াড় আছে। আমার মনে হয় স্পেন, ব্রাজিলও এগিয়ে- যদিও তাদেরকে (ব্রাজিল) সম্প্রতি সেরা ফর্মে দেখা যায়নি। তবে সবসময়ই তারা শিরোপার দাবিদার এবং সব প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো খেলোয়াড় তাদের আছে। জার্মানি, ইংল্যান্ড, বড় শক্তিগুলো... পর্তুগালেরও খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও ভালো দল আছে। তার পর কিছু চমক তো সবসময় থাকেই।
দীর্ঘ তিন যুগের অপেক্ষা শেষে মেসির কাঁধে ভর করেই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব সেরা ট্রফি জয় করে আর্জেন্টিনা। মেসি নিজে জেতেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর বাকি আর এক মাসের একটু বেশি সময়। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আর কৌতূহল চলছে অনেক দিন ধরেই। এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলেননি ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে মেসি বলেন, (আর্জেন্টিনা) ভালো অবস্থায় আছে। যদিও অনেক খেলোয়াড়ের বর্তমানে চোট ও ম্যাচ ফিটনেসের অভাব রয়েছে। তবে সত্যি হলো দলটা ঐক্যবদ্ধ। এটি প্রমাণিত যে, এই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সবসময় জিততে চায় এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে। আমাদের রোমাঞ্চিত হতে হবে, যেমনটা আর্জেন্টাইনরা সবসময় হয়ে থাকে, যখনই কোনো প্রতিযোগিতা আসে, সেটা কোপা আমেরিকা হোক বা বিশ্বকাপ।
তিনি যোগ করেন, কিন্তু আমাদের এটাও মেনে নিতে হবে যে, আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা আরো দল আছে, যারা দল হিসেবে আরো ভালো ফর্মে আছে। কাতার বিশ্বকাপের মতো ফেবারিট আর্জেন্টিনা এবার নয়। তবে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের জন্য দলটি নিজেদের সবটা উজাড় করে দেবে বলেই বিশ্বাস।



