রোগীর চাপে নাকাল পাবনা জেনারেল হাসপাতাল

মেঝেতেও নেই জায়গা

Printed Edition
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে জায়গা না থাকায় শিশুদের কোলে নিয়ে আছেন তাদের বাবা-মা : নয়া দিগন্ত
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে জায়গা না থাকায় শিশুদের কোলে নিয়ে আছেন তাদের বাবা-মা : নয়া দিগন্ত

এসএম আলাউদ্দিন পাবনা

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ শয্যাসঙ্কট দেখা দিয়েছে। ৩৬ শয্যার এ ওয়ার্ডে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে ২৫০ থেকে ২৬০ শিশু রোগী। ফলে একটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন করে রোগী রাখতে হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ওয়ার্ডের মেঝে, করিডোর, এমনকি পাশের গাইনি ও স্ক্যানু ইউনিটের করিডোরও রোগীতে পূর্ণ। অনেক শিশু রোগী এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও শয্যা পাচ্ছে না। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

সম্প্রতি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। যেসব শয্যায় একজন রোগী থাকার কথা, সেখানে দুই বা তিনজন শিশুকে রাখা হয়েছে। মেঝে ও করিডোরে বিছানা পেতে সন্তানদের চিকিৎসা করাচ্ছেন অভিভাবকেরা।

সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামের পাঁচ মাস বয়সী শিশু তালহা আট দিন আগে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। শিশুটির মা মিম জানান, ভর্তির পর আট দিন পার হলেও সন্তানের জন্য কোনো শয্যা পাননি। শুরুতে বিভিন্ন স্থানে কষ্ট করে থাকতে হয়েছে, পরে করিডোরে সামান্য জায়গা মিলেছে।

সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাপ্পু জানান, তার ১৩ মাস বয়সী মেয়ে মানহাকে পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো শয্যার ব্যবস্থা হয়নি। তিনি বলেন, শিশুকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ রোগী ভর্তি থাকছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত শিশু রয়েছে ৫৫ থেকে ৬৫ জন। এ ছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়া ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত আরও প্রায় ১৯০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিটি রোগীর সাথে অন্তত একজন অভিভাবক থাকায় ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের উপস্থিতি থাকছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম বলেন, ৩৬ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। শয্যাসঙ্কটের কারণে বেশির ভাগ শিশুকে মেঝে বা করিডোরে রাখতে হয়। এবার হামের প্রকোপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

তিনি জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৩ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মোট ২৬০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: রফিকুল হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকছে। জনবল ও ওষুধের বরাদ্দ নির্ধারিত শয্যার ভিত্তিতে হলেও রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেশি। হামের রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান অবকাঠামোর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডসহ অন্য কোনো ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগও নেই। ফলে সীমিত সক্ষমতায় সেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।ন