পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চাইল ডিএসই

Printed Edition
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-এর সাথে বৈঠক করেন :  নয়া দিগন্ত
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-এর সাথে বৈঠক করেন : নয়া দিগন্ত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, সুশাসন, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএর সাথে বৈঠক করেন। প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন ডিএসইর পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, স্নেহাশীষ বড়ুয়া, এফসিএ, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, মো: সাজেদুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

বৈঠকে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পুঁজিবাজার উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের পুঁজিবাজারকে আরো কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করা। এ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল রিয়েল টাইম গ্রস স্যাটেলমেন্ট (আরিটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি, স্যাটেলমেন্ট সাইকেল টি+২ থেকে টি+১-এ রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআর ও এসএনডি হিসাবের অর্থ ধাপে ধাপে নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ হিসাব সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সিকিউরিটিজ ও বন্ড মার্কেটভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থা, সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন, সুকুক লেনদেন চালু এবং স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সিআইবি রিপোর্ট অ্যাক্সেস সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।

এ ছাড়াও ডিএসইর এ প্রতিনিধিদল দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি এবং এক্সিম ব্যাংক পিএলসি) একীভূত করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদল জানায়, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সাথে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এ সময় প্রতিনিধিদল ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়। গভর্নর প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে উল্লিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, বাজারে তারল্য ও দক্ষতা উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আর্থিক বাজারব্যবস্থা গড়ে উঠবে।