পেটের সমস্যায় মাটি খায় বানর

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

জিব্রাল্টারের বিখ্যাত বার্বারি ম্যাকাউ প্রজাতির বানরদের খাদ্যাভ্যাসে অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বিজ্ঞানীরা। পর্যটকদের দেয়া চিপস, চকোলেট এবং আইসক্রিমের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রভাবে সৃষ্ট পেটের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি দূর করতে এই বন্যপ্রাণীগুলো এখন নিয়মিত মাটি বা কাদা খাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার নাম ‘জিওফ্যাগি’, যা মূলত হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমেট আচরণ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সিলভাইন লেমোইনের নেতৃত্বে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বানর পর্যটকদের সংস্পর্শে বেশি আসে, তাদের মধ্যেই মাটি খাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে যখন পর্যটকের ভিড় বাড়ে এবং বানররা বেশি পরিমাণে লবণাক্ত বা মিষ্টিজাতীয় জাঙ্ক ফুড খায়, ঠিক তখনই তাদের মাটি খাওয়ার হারও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মজার ব্যাপার হলো, জিব্রাল্টারের যে দলগুলো পর্যটকদের থেকে দূরে নির্জনে বসবাস করে, তাদের মধ্যে মাটি খাওয়ার এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জিব্রাল্টারের এই বানরদের মোট খাদ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই ছিল পর্যটকদের দেয়া বাইরের খাবার। চকোলেট বার থেকে শুরু করে এমনকি কোকা-কোলা বা অরেঞ্জ জুস পান করতেও দেখা গেছে এই বন্যপ্রাণীদের। গবেষকরা জানান, বানররা বিশেষ করে ম্যাগনাম বা করনেটোর মতো আইসক্রিমগুলো খুব পছন্দ করে, তবে সরবেটের প্রতি তাদের আগ্রহ কম। অত্যাধিক শর্করা ও চর্বিযুক্ত এসব খাবারের কারণে তাদের পেটে যে প্রদাহ বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তা প্রশমিত করতে তারা মাটির খনিজ উপাদানকে এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করছে।

তবে এই নতুন অভ্যাস বিজ্ঞানীদের মনে শঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। জিব্রাল্টারের রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রচুর যানবাহন চলাচল করে, ফলে রাস্তার ধারের মাটিতে ক্ষতিকর দূষণকারী উপাদান বা সীসার উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বানররা যদি সেই দূষিত মাটি গ্রহণ করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্নায়ুতন্ত্র বা প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের বানরদের খাবার দিতে নিষেধ করে থাকে, কিন্তু বাস্তবে এই নিয়মের কঠোর প্রয়োগ না হওয়ায় এই পরিবেশগত সঙ্কট বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল মাটি খেয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বরং বন্যপ্রাণীদের মানুষের তৈরি অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়া বন্ধ করাই হবে টেকসই সমাধান।