আলমগীর কবির
গ্ল্যামারের আলো ঝলমলে আবহে গত ১২ মে ফরাসি রিভিয়েরায় পর্দা উঠল ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের। তবে এবারের উৎসব কেবল রূপালি পর্দার উদযাপনেই সীমাবদ্ধ নয়; উদ্বোধনী দিনেই উৎসবের মূল কেন্দ্রে চলে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আশঙ্কা এবং হলিউডের বদলে যাওয়া সমীকরণ। উৎসবের প্রথম সন্ধ্যায় ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ খ্যাত নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি নির্মাতা পিটার জ্যাকসনকে সম্মানসূচক ‘পাম দর’ প্রদানের মাধ্যমে এই বিশ্ব আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
মঞ্চে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন তারই ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ফ্রোডো’, অভিনেতা এলাইজা উড। বিনয়ী জ্যাকসন পুরস্কার হাতে নিয়ে কৌতুক করে বলেন, তিনি ঠিক বুঝতে পারছেন না কেন এই সম্মান তাকে দেয়া হলো। দ্য বিটলসকে নিয়ে করা তার তথ্যচিত্রের স্মরণে ‘গেট ব্যাক’ গানের মূর্ছনায় তাকে অভিবাদন জানানো হয়।
উৎসবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জেন ফন্ডা ও গং লি। ফন্ডার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় দৃঢ় প্রত্যয় ‘সিনেমা সব সময়ই প্রতিরোধের এক নাম।’ জুরিবোর্ডের সদস্যদের বক্তব্যেও ফুটে ওঠে বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা। স্কটিশ চিত্রনাট্যকার পল ল্যাভার্টি গাজায় চলমান সহিংসতার কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন গাজায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় হলিউড সুসান সারান্ডন বা হাভিয়ের বারদেমের মতো শিল্পীদের অবজ্ঞা করছে। জুরি প্রধান পার্ক চ্যান-উইক স্পষ্ট জানান, শিল্প ও রাজনীতি সমান্তরাল; এদের একটি থেকে অন্যটিকে আলাদা করার সুযোগ নেই।
প্রযুক্তি ও সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন জুরি সদস্য ও অভিনেত্রী ডেমি মুর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে স্বীকার করে তিনি বলেন, এর বিরুদ্ধে লড়াই করাটা অনেকটা হার নিশ্চিত জেনে যুদ্ধে নামার মতো। তার চেয়ে বরং এআইয়ের সাথে সমন্বয় করে কীভাবে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, সেই পথ খুঁজে বের করা বেশি জরুরি।
এবারের কান উৎসবে হলিউড স্টুডিওগুলোর সরব উপস্থিতি কিছুটা ম্লান। বড় কোনো ব্লকবাস্টার ছবির পরিবর্তে এবার প্রাধান্য পাচ্ছে সৃজনশীল ও মননশীল সিনেমা। উৎসবের শৈল্পিক পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো মনে করেন, হলিউড এখন এক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তবে স্টুডিও মুভির ঘাটতি থাকলেও তারকার অভাব নেই। আগামী দুই সপ্তাহ কানের রেড কার্পেটে আলো ছড়াবেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, অ্যাডাম ড্রাইভার এবং কেট ব্ল্যানচেটের মতো তারকারা। পেড্রো আলমোদোভার ও জেমস গ্রের মতো নির্মাতাদের ছবি নিয়ে ইতোমধ্যেই চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে অস্কারের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব হয়ে উঠেছে একাধারে গ্ল্যামার ও মননের এক অসাধারণ মিলনমেলা।



