পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আনুগত্য ও আত্মত্যাগের এক মহান শিক্ষা নিয়ে দেশব্যাপী উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মত বাংলাদেশেও উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করা হয়। দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদে গত বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও প্রায় ৩৫ হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে ধারাবাহিকভাবে মোট পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশেই এভাবে কোটি কোটি মুসলিম ঈদের জামাতে শরিক হন।

ঈদের খুতবায় ইমামরা কোরবানির তাৎপর্য, শিক্ষা ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন। তারা বলেন, কোরবানি একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই আদায় করতে হবে; অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোরবানি করা বৈধ নয়। তারা আরো বলেন, আল্লাহ তায়ালার ওয়াজিব বিধান যথাযথ গুরুত্ব ও সতর্কতার সাথে পালন করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের কর্তব্য। কোরবানির গোশত বণ্টন প্রসঙ্গে তারা বলেন, সমাজের অভাবগ্রস্ত ও কোরবানি করতে অক্ষম মানুষের খোঁজ নিয়ে তাদের মধ্যে কোরবানির গোশত পৌঁছে দিতে হবে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়।

ঈদের জামাত শেষে আত্মত্যাগের নিদর্শন হিসেবে পশু কোরবানি করেন সামর্থবান মুসলিমরা। ঈদের দিন থেকে মোট তিন দিন এ পশু কোরবানি অব্যাহত থাকে। এ ছাড়া এ সময়ে ছুটি থাকায় অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যান। এ কারণে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে গত কয়েকদিনে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদ উদযাপন শেষে আবার সবাই যার যার কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন।