চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি বাসায় বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামের ভবনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ওই বাসায় ভাড়ায় বসবাস করা মো: সাখাওয়াত (৪৬), তার ছেলে শাওন (১৭), আনাস (৭) ও আইমান (৯), ভাই মো: সুমন (৪০) ও তার স্ত্রী পাখি বেগম (৩৫), তাদের চার বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা এবং সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন (৩০)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলায়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তথ্যানুযায়ী, দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন, পাখি আক্তার ও রানী আক্তারের শ্বাসনালীর শতভাগ পুড়ে গেছে। মো: শিপনের শ্বাসনালীর ৮০ শতাংশ পুড়েছে। মো: সুমন ও মো: শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। তিন শিশু- মো: আনাস, উম্মে আইমন ও আয়েশা আক্তারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় বিস্ফোরণ হয়। এরপর আগুন ধরে যায়, যা ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজেদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বিস্ফোরণে তৃতীয় তলার বাসাটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুরো ভবনে ১০-১২টি ফ্ল্যাটের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দরজা, জানালার কাচ, আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। কারণ এখানে সব বাসায় লাইনের গ্যাস আছে, সিলিন্ডার ব্যবহার হয় না। এসির গ্যাস জমে কিংবা আইপিএস বিস্ফোরণ হতে পারে।’
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত বলেন, হালিশহর থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ অবস্থায় ভোরে ৯ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অবস্থা খুবই শঙ্কাজনক। তাই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।


