আলজাজিরার বিশ্লেষণ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া কিছু তথ্যের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এ হামলা যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেবে।
গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এমন একসময়ে এ হামলা হলো যখন ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করা নিয়ে আলোচনা চলছিল। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ইসরাইলসহ বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ; কারণ এতে ব্যবহৃত দামি গোলাবারুদ আবার সংগ্রহ করা ওয়াশিংটনের জন্য অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। তবে ট্রাম্প এই সতর্কতা প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার এখন ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে এবং যুদ্ধের জন্য তাদের কাছে কার্যত সীমাহীন অস্ত্রের জোগান রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছর ইসরাইল ও ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছিল। বর্তমানে ইরানের ভেতরে বি-১, বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ ও এফ-২২ জেটের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া টমাহক ক্রুজ মিসাইল ও রিয়েপার ড্রোনের মতো ব্যয়বহুল অস্ত্রও ব্যবহার করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান যে গতিতে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র সেই গতিতে তা ঠেকানোর ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বানাতে পারছে না। হিসাব অনুযায়ী, ইরান মাসে ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ছয় থেকে সাতটি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে সক্ষম। এ ছাড়া ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহী এবং ইউক্রেন ও ইসরাইলকে সহায়তা দিতে গিয়ে আমেরিকার অস্ত্রের মজুদ এমনিতেই টানাপড়েনের মধ্যে আছে।
স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রিবল আলজাজিরাকে বলেন, আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাজেট ট্রিলিয়ন ডলারের হলেও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়টি তাৎক্ষণিক নয়। একটি প্যাট্রিয়ট বা এসএম-সিক্স ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি, যা চট করে হাজার হাজার সংখ্যায় বানানো সম্ভব না। ফলে এই অভিযান যদি কয়েক সপ্তাহ চলে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বা অন্য জায়গা থেকে অস্ত্র সরিয়ে আনতে হবে, যা আমেরিকার জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া যুদ্ধজাহাজ ও সেনা মোতায়েন করতে আরও খরচ হয়েছে ৬৩ কোটি ডলার। একটি বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা করতেই প্রতিদিন প্রায় ৬৫ লাখ ডলার খরচ হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয়ের বোঝা এবং অস্ত্রের অভাব আমেরিকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।



