বিশেষ সংবাদদাতা
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর এক মাস পেরিয়ে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দিন কাটছে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, লেবানন, জর্দান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (আবুধাবি) বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা এখন জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কুয়েত, কাতার ও আবুধাবিতে চালানো মিসাইল হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচ বাংলাদেশী নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের নিরাপদ থাকতে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশ পরিহারসহ খোলা আকাশের নিচে জমায়েত না হতে বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে কাতার, আবুধাবি, কুয়েত, বাহরাইন ও লেবাননের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক প্রবাসী টিকিট কেটেও দেশে ফিরতে পারছেন না। তবে সৌদি আরবের জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খোলা থাকায় রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীরা জেদ্দা হয়ে সড়কপথে গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরে যাত্রীদের চাপ কমলেও বৈধভাবে শ্রমিক যাওয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে কমেছে।
ঈদের আগে অনেক প্রবাসী ধারদেনা করে দেশে টাকা পাঠালেও যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স পাঠানোর গতি শ্লথ হয়ে গেছে। কুয়েতের কে বি ই এক্সচেঞ্জের হাসাবিয়া শাখার ব্যবস্থাপক আ ক ম আজাদ নয়া দিগন্তকে জানান, সেখানে প্রতিদিন বোমা বর্ষণ হচ্ছে। কুয়েত বিমানবন্দরের অবস্থা নাজুক এবং মার্কিন ঘাঁটিসহ তেল ট্যাংকার ও পাওয়ার স্টেশন ধ্বংস হওয়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, প্রবাসীরা আতঙ্কে আছেন; অনেকে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও কোম্পানি থেকে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে।
বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরবে শ্রমিক যাওয়া অব্যাহত থাকলেও সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের জন্য রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে জানানো হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা সৌদি আরব ত্যাগ করতে পারেননি, তাদের আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার সুযোগ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ভিজিট, ওমরাহ ও ফাইনাল এক্সিট ভিসাধারীরা এই সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই টিকিট কেটে সরাসরি বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। এই সময়সীমা পার হলে তাদের আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশটিতে আটকা পড়া অনেক প্রবাসী দূতাবাসের সেবা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এক প্রবাসী জানান, গত ডিসেম্বর থেকে ফাইনাল এক্সিটের আবেদন করলেও এখনো কোনো সাড়া পাননি। এমনকি দূতাবাসের হেল্পলাইনে কল করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জীবন ও জীবিকার এই চরম সঙ্কটে প্রবাসীরা এখন সরকারের পক্ষ থেকে আরো কার্যকর কূটনৈতিক ও উদ্ধার তৎপরতার প্রত্যাশা করছেন।



