আম্মারের অসুস্থ বাবাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মা রোকেয়া খানম

Printed Edition
মা-বাবার সাথে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার  : নয়া দিগন্ত
মা-বাবার সাথে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার : নয়া দিগন্ত

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দীন আম্মারের মা রোকেয়া খানম তার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন,আম্মারকে নিয়ে আমি বিচলিত নই, আমি তার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বেশি চিন্তিত। আমার স্বামী পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিনা দোষে একাধিক মিথ্যা মামলায় তিনবার কারাভোগ করেন। সর্বশেষ কারামুক্তির পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে।

সম্প্রতি আম্মারকে সতর্ক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার ভেরিফাইড ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ছাত্রদল শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়/রাজশাহী জেলা, মহানগর ইউনিটে সমৃদ্ধ নয়, আম্মারের জন্মস্থান যেখানে তার শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন, সেখানে যেমন ছাত্রদল রয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা, মহানগর, উপজেলায় ছাত্রদলের লাখ লাখ নেতাকর্মী রয়েছে।তিনি আরো অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে আবির্ভূত কিছু ব্যক্তি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন এবং নেতাকর্মীদের সম্মানহানী করছেন। তবে ওই পোস্টকে ঘিরে রোকেয়া খানমের আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইতোপূর্বে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করায় কয়রা উপজেলার যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও আম্মারের মামা মোহতাসিম বিল্লাহর নেতৃত্বে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি আম্মারকে কয়রাতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির ফেসবুক পোস্টে এলাকায় নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আম্মারের বাবা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন। কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাব ও পুলিশি নির্যাতনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বাড়িতেই চিকিৎসা নিতে থাকেন।

রোকেয়া খানম বলেন,অনেক আগেই আমার ছেলেকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করেছি। আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। গত ১৭ বছর ধরেই আমরা নানা হুমকির মধ্যে বসবাস করছি। নতুন করে আমার হারানোর কিছু নেই। তবে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। তিনি ছাত্রদলের সভাপতির উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা তার কাছ থেকে পিতা-মাতার মতো সম্মান প্রত্যাশা করি। একজন মা হিসেবে আমি তার জন্য দোয়া করি।’

সালাহউদ্দীন আম্মার বলেন, আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। শেখ হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলন করেছি। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করবো না এতে জীবন চলে গেলেও আক্ষেপ নেই। আমার পরিবারের কিছু হলে তার দায় এই সরকারকে নিতে হবে।

কয়রা থানার (ভারপ্রাপ্ত) অফিসার ইনচার্জ মো: শাহ আলম বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটতে পারে সেজন্য পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।