পেশকার হাটের খাল দখল করে ভবন নির্মাণ

Printed Edition

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের শত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘পেশকার হাট’ সংলগ্ন প্রাকৃতিক খালটি অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। খালের জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের ফলে এক সময়ের খরস্রোতা জলপথ এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের ওপর।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবীণদের অভিযোগ, এক সময় এই খাল দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পণ্যবাহী নৌকা হাটে এসে ভিড়ত। বাজারের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন এবং ব্যবসায়ীদের ব্যবহারের জন্য এখানে একটি বিশাল ঘাটলা ছিল। কিন্তু বর্তমানে নূর ইসলাম শিকদার ও আব্দুল মালেক দালাল নামের দুই ব্যক্তি ড্রেনের ৬ ফুট মুখ ও ঘাটলার জায়গা দখল করে স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। ভবনের একটি বড় অংশ খালের মধ্যে এবং মাটি ভরাট করে খালটিকে সঙ্কুচিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ী ও কৃষকদের দাবি, ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারে পানি জমে মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকরা সেচ ও পণ্য পরিবহনে চরম সমস্যায় পড়ছেন। অভিযুক্ত নূর ইসলাম শিকদার খাল দখলের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, ওই এলাকায় আরো অনেকেই আগে থেকে খালের ওপর ঘর তৈরি করেছেন, তাই আমিও করেছি। তবে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের পাল্টা অভিযোগও তুলছেন। অন্য দিকে, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাসেল জানান, ড্রেন ও ঘাটলার জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করায় প্রশাসন ইতোমধ্যে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লালমোহনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানুল হক। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ তাৎক্ষণিক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পুরো হাট ও খালের ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।