বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেয়ার আগ্রহ জাপান কোম্পানির

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের বিখ্যাত কোম্পানি কাওয়াসাকি বাংলাদেশ থেকে নির্মাণ, আইটিসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাওয়াসাকি চেম্বার-এর ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গতকাল (স্থানীয় সময়) কাওয়াসাকি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল টোকিও-এর বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো: দাউদ আলীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে কাওয়াসাকি জাপানের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র উল্লেখ করে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানির আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূতকে। বিশেষত, নির্মাণ ও আইটি সেক্টরে প্রচুর কর্মী প্রয়োজন বলে তারা জানান।

দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যৌথ উদ্যোগে কাওয়াসাকিতে একটি সেমিনার আয়োজন করা এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সফর বিনিময়ের বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং কাওয়াসাকির বিভিন্ন শিল্প কারখানায় বাংলাদেশী কর্মীদের নিয়োগের অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রদূত নার্সিং, কেয়ারগিভিং, আইটি, তৈরী পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল রয়েছে বলে অবহিত করেন। তিনি এও বলেন, আমাদের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার শুধুমাত্র জাপানের জন্যই একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ করে রেখেছে। তিনি কাওয়াসাকি চেম্বারের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

এ দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে কিভাবে আরো বেশি বেশি দক্ষ কর্মী পাঠানো যায় সে সব পরিকল্পনা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চলতি সপ্তাহে একটি সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেয়ার কার্যক্রম চলছে। প্রতিবেদন তৈরির নেতৃত্বে রয়েছেন এই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া। ইতোমধ্যে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাপানের শ্রমবাজারের সার্বিক অবস্থা দেখতে একাধিক সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন। মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ নামে একটি আলাদা সেলও গঠন করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ (এন ফোর) হয়ে মাত্র ৮১৭ জন দক্ষ কর্মী কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে যেতে পেরেছেন। কর্মীর সংখ্যা না বাড়ার অন্যতম কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, দীর্ঘ মেয়াদি (৮ মাস) প্রশিক্ষণ গ্রহণের আগেই অনেকে ছিটকে পড়ে। হতাশ হয়ে অনেকে পালিয়ে যায় ট্রেনিং সেন্টার থেকেই। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষকের অভাব।

এ দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাপানে কর্মী প্রেরণকে কেন্দ্র করে দুই দেশে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট সদস্যরা নানা কৌশলে বিদেশগামীদের জিম্মি করার চেষ্টা করে থাকে বলে অভিযোগ আছে।