নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ববি) দেশের দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রাপ্ত এই ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেে ভিসি নিয়োগ দেয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভিসিদের নিয়োগে শর্তে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত যেটি আগে ঘটবে তিনি ভিসির দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য মতে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বিএনপিপন্থী শিকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাদাদলের আহ্বায়ক। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বর্তমানে সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: মামুন অর রশিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শিা মন্ত্রণালয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম। ড. শামীম বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের (এসএআরডি) অধ্যাপক এবং ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই আমলে নিয়োগ পাওয়া ভিসি ও প্রো ভিসিসহ শীর্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া শিকরা আন্দোলন ও তোপের মুখে একের পর এক পদত্যাগ করেন। মেয়াদ শেষ এবং কার্যক্রম শুরু হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্তর্বর্তী সরকার ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের জন্য শর্তসাপেে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়।
বর্তমানে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা। আবার জামায়াত কিংবা অন্য আদর্শের ভিসিদের রাখতে চাইছে না সরকার। এর বাইরে শীর্ষ এই পদে থেকে যারা ভালো করতে পারেননি, তাদের পরিবর্তনের চিন্তা রয়েছে। পরিবর্তনের এই তালিকায় রয়েছেন অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। বর্তমান বিএনপি সরকারও মতায় এসে প্রথম ধাপে গত মার্চে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভিসি নিয়োগ দেয়। এরপর আলাদাভাবে আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার বছরের জন্য একজন শিককে শর্তসাপেে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সেখানে একটি শর্ত থাকে রাষ্ট্রপতি (আচার্য) প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারেন।



