নিজস্ব প্রতিবেদক
সীমান্তে অপরাধে জড়িত ও অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে হত্যাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যদি অন্য দেশের বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে কিলিং করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের সীমানার অভ্যন্তরে এবং তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনো রকমের কোনো অপরাধে কেউ জড়িত থাকে, যদি কেউ ইললিগ্যাল ট্রেসপাস (অনুপ্রবেশ) করে যায়, সেটা তারা (সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কিভাবে অ্যাড্রেস করবে তা তাদের দেশীয় আইনের ওপর নির্ভর করে। এটাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না।
মন্ত্রী বলেন, বিএসএফ ও বিজিবির ডিজি পর্যায়ের আগামী যে বৈঠক হবে, সেটা আমাদের সবসময়ের রেগুলার ফাংশন, প্রতি বছরই হয়। একবার এই সাইডে হয়, আরেকবার ওই সাইডে হয়। এক্ষেত্রে বর্ডারের ইস্যুগুলো অ্যাড্রেস করা হবে, উভয় পক্ষের কি কি সমস্যা আছে এবং সমস্যাগুলো কিভাবে হয় সেসব বিষয়ে কথা হবে। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় উত্থাপিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তারা বাংলাদেশী নাম দিয়ে সীমান্তে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জড়ো করছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এগুলো শুনতে পাচ্ছি, বর্ডারে আমাদের বিজিবি অ্যালার্ট আছে। আমরা যেকোনো রকমের ইললিগ্যাল পুশইন বা পুশব্যাকের বিপক্ষে। কিন্তু যদি বাংলাদেশের কোনো সিটিজেন যেকোনো কারণেই হোক সে দেশে গিয়ে থাকে, তাদের যদি ন্যাশনাল আইডি আইডেন্টিফিকেশন ভেরিফিকেশন করা হয়, ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন করে যদি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সেরকম কোনো তালিকা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরণ করে, তারা সেটা আইনানুগভাবে রিপেট্রিয়েশন প্রসেসটা ফলো করবে। মন্ত্রী বলেন, সেরকম কোনো বিষয় আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত পেন্ডিং নেই, যদি অতীতে পেন্ডিং থাকে সেটা অবশ্যই সেভাবে লিগ্যালি অ্যাড্রেস করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর (মেট্রো) এলাকার বাইরে পাঠানোর চিন্তাভাবনা চলছে। এতে নতুন করে কেউ বেকার হবে না, ট্রাফিক ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে রাতারাতি হাজার হাজার অটোরিকশা (ব্যাটারিচালিত রিকশা) রাস্তায় নেমে গেছে। বেকারত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের রাতারাতি উচ্ছেদ করা কঠিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেহেতু হাজার হাজার মানুষ, বেকার সমস্যা বেশি, তাই অটোরিকশাচালকদের পুনর্বাসন না করে রাতারাতি বেকার করে দিলে সমস্যা সৃষ্টি হবে। সে জন্য সরকার চেষ্টা করছে তাদের মহানগর এলাকার বাইরে অন্যভাবে পুনর্বাসন করতে। যাতে বেকারত্ব তৈরি না হয়, ট্রাফিকেরও কোনো সমস্যা না হয়।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ঢাকার যানজট নিরসনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এআই প্রয়োগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা) সুফল ইতোমধ্যে জনগণ পেতে শুরু করেছে। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বুয়েটের (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। রাতের বেলায়ও চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার কারণে জনসচেতনতা বেড়েছে।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় নৃশংসভাবে শিশু হত্যার ঘটনায় বিচারকাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সঠিক নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এ বিচারকাজ শেষ হবে।



