ফটিকছড়িতে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের হিড়িক

বাড়ছে দুর্ঘটনা ও ভূমিকম্প ঝুঁকি

Printed Edition

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌর এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠছে অসংখ্য বহুতল ভবন। জাতীয় বিল্ডিং কোড ও পৌরসভার বিধিমালা উপেক্ষা করে নির্মিত এসব ভবন এখন জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এ এলাকায় অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অনেক ভবন মালিক অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পৌর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়তলাবিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। তবে ভবনের লে-আউট ও ফাউন্ডেশন তৈরির সময় পৌরসভার প্রকৌশল শাখার উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিধান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক মালিক পাঁচ তলার অনুমোদন নিয়ে ছয় থেকে আটতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করছেন। সেফটি জোন বা পর্যাপ্ত খালি জায়গা না রেখেই মহাসড়ক ঘেঁষে ভবন তোলা হচ্ছে। এতে যেমন ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জলাবদ্ধতা।

সম্প্রতি বিবিরহাট বাজারে ‘হাসান টাওয়ার’ নামে একটি ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটি পাঁচতলার অনুমোদন পেলেও বাস্তবে সাততলা নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ছাদের ওপর অতিরিক্ত কক্ষ নির্মাণ করে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

ফটিকছড়ি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, ‘অনেক ভবন মালিক অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জাতীয় বিল্ডিং কোডের লঙ্ঘন।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যকর তদারকির অভাবে ভবন মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘নকশা বহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’