সেন্ট পিটার্সবার্গে অর্থনৈতিক ফোরাম শুরুর আগেই ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

Printed Edition

রয়টার্স

ক্রেমলিন প্রধান ভøাদিমির পুতিনকে স্পষ্টত বিব্রত করার উদ্দেশ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গে তাঁর জমকালো অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনীয় ড্রোন সেখানকার একটি তেল টার্মিনাল এবং কাছাকাছি একটি নৌঘাঁটির ড্রাইডকে থাকা যুদ্ধজাহাজে আঘাত হেনেছে।

পুতিনের নিজের শহর এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য পরিকল্পিত জমকালো বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরাম তথা পুতিনের নিজস্ব ডাভোস অনুষ্ঠিত হওয়ার এই স্থানে এমন সময়ে হামলাটি চালানো হলো যখন চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে কোনো আসন্ন সমাপ্তির লক্ষণ ছাড়াই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা অপছন্দনীয় বা অলীকিত কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে যে ব্যাকগ্রাউন্ডে রফতানি জ্বালানি টার্মিনালে আগুন জ্বলছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেন্ট পিটার্সবার্গের কিছু অংশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ইউক্রেনের বিমান-সদৃশ ড্রোনগুলোর ভিডিও রেকর্ড করছেন। একটি ড্রোন কোনো বাধা ছাড়াই উড়ে যাওয়ার সময় বিমান বিধ্বংসী কামানের মতো শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

মস্কোর কাছে এই ইভেন্টের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইউক্রেনীয় এই হামলা রাশিয়ার নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কতটা কার্যকর তা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে প্রশ্ন তুলতে পারে যা এমন এক সমস্যা যার মুখোমুখি ইউক্রেন নিজেও হচ্ছে। অর্থনৈতিক ফোরামের মূল স্থানটি কড়া নিরাপত্তায় সুরক্ষিত ছিল এবং ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো সেই ভেনুর কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সেন্ট পিটার্সবার্গের ঐতিহাসিক শহর কেন্দ্র থেকে ধূসর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দৃশ্যমান ছিল এবং রয়টার্সের প্রতিনিধিরা বুধবার সকালে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। এই একই বিস্ফোরণের শব্দ ফোরামের শত শত অতিথিও শুনে থাকবেন যাদের মধ্যে কেউ কেউ আলোচনার প্রথম দিন শুরুর আগেই বিমানে করে এখানে এসেছিলেন।

ক্রিমিয়াগামী বাসে ড্রোন হামলায় নিহত ৭

এএফপি জানায়, পূর্ব ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং অপর ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দোনেৎস্ক এলাকার মস্কো-অনুগামী প্রশাসন এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এর ঠিক আগের দিন ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

আক্রান্ত বাসটি মস্কো থেকে রওনা হয়ে ক্রিমিয়ার সিমফেরোপোলের দিকে যাচ্ছিল।