সীমান্ত বিরোধ নিরসনে বৈঠক গিনি-লাইবেরিয়া-সিয়েরা লিওনের

Printed Edition

এএফপি

গিনি সীমান্তে সৈন্য মোতায়েনের পর, গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওন সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের অঙ্গীকার করেছে। এই দেশগুলো সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডের সীমানা নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই সোমবার কোনাক্রিতে গিনির প্রেসিডেন্ট মামাদি দুম্বুয়ার নেতৃত্বে তাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গিনির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈঠকে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোয়াকাই ও সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদা বায়ো অংশগ্রহণ করেন এবং গিনি ও লাইবেরিয়া উভয়ের সীমান্তবর্তী দেশ কোত দিভোয়া একটি ‘সাক্ষী দেশ’ হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিল। চারটি দেশ ম্যানো রিভার ইউনিয়নের সদস্য। এই সংগঠনটির লক্ষ্য হলো- মানো নদীর অববাহিকায় মুক্ত বাণিজ্য সহজতর করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদার করা।

গিনির সামরিক বাহিনী থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গিনি গত রোববার লাইবেরিয়ার সাথে তার সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন করছে। ছবিগুলোতে একটি সামরিক শিবিরের সামনে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সৈন্যদের সাথে সামরিক যান, পিকআপ ট্রাক ও সাঁজোয়া গাড়ির একটি বহরকে দাঁড় করানো অবস্থায় দেখা যায়। ছবিতে দেখা যায়, বিদায়ের আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট দুম্বুয়া সেনাদেরকে জাতীয় পতাকা প্রদান করছেন।

প্রেসিডেন্ট মামাদি দুম্বুয়া বলেন, ‘গিনির জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা প্রদত্ত ভূমির কোনো অংশই কেউ দখল করতে পারবে না।’ গতকাল সোমবার বৈঠকের পর গিনির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আরটিজি-এ পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওন সীমান্ত সংক্রান্ত ঘটনার সমাধান সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতারা ম্যানো নদী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার এবং সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানো এড়ানোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্বাক্ত করেছেন। তিনটি দেশ সীমান্ত নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যৌথ কারিগরি কমিশন গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে।