ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নন পরিচালকরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মাত্র ছয় মাস হয়েছে বিসিবি নির্বাচনের। বর্তমান বোর্ডে ইতোমধ্যে ভাঙনের সুর। একে একে বোর্ড পরিচালকরা পদত্যাগ করছেন। এ দিকে বিশ্বকাপ না খেলা এমনকি নির্বাচন নিয়েও বিতর্কের তৈরি হলে শুরু হয় তদন্ত কার্যক্রম। এ দিকে ক্লাব ক্রিকেট তো অচলাবস্থায় রয়েছেই, বিপিএল চলাকালেও ক্রিকেটারদের বয়কটের ঘটনা ঘটেছিল। সব মিলে বোর্ডে চলমান অস্থিরতায় ভবিষ্যৎ ও স্থায়িত্ব নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও বিসিবি কর্তারা দাবি করছেন, তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই এগোচ্ছে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম।

ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘অস্থিরতা থাকলে আমাকে এখানে দেখতেন? আমাদের যে যার দায়িত্ব তা পালন করছি। ভবিষ্যতে যদি কিছু হয় এ নিয়ে আমরা চিন্তিত না। সবাই জানেন আমরা প্যাশন হিসেবে এসে সার্ভিস দিচ্ছি।’

বিসিবির প্রথম নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা জানান, পরিস্থিতি যা-ই হোক বোর্ডের কাজ আটকে নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা ৯ ঘণ্টা বোর্ড মিটিং করেছি। বেশ কিছু এজেন্ডা নিয়ে সামনে তাকিয়েছি আর কী কী করা যায়। অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কমিটির চেয়ার একেকজনকে নির্ধারণ করে তাদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমরা সবাই দায়িত্বশীল। যেটা হওয়ার সেটা হবে, কাজের দিকেই লক্ষ্য রাখছি।’

পরিচালকরা সবাই চেয়েছে দল বিশ্বকাপ খেলুক

ক্রিকেটারদের মতামত না নিয়েই বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বোর্ড ও ক্রিকেটাররা সম্মত ছিলেন। অথচ তাদের চাওয়া গুরুত্ব পায়নি সরকারের কাছে। নাজমুল আবেদিন ফাহিম জানান, ‘বিশ্বকাপ ঘিরে মোস্তাফিজ ইস্যুর পর আমরা প্রথমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা ছিল। সরকার থেকে যখন একটা সিদ্ধান্ত চলে আসে তখন সেটাই ফলো করতে হয়েছে। আমার ধারণা ছিল ওদের সাথে আলাপ আলোচনা করব, দর কষাকষি হবে, সরি বলবে। তারপর হয়ত আমরা রাজি হবো যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে পথে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে আমরা যাব না। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম বিশ্বকাপ খেলতে। সরকার নিরাপদ না বলার পর আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না।’

পরিচালক মোখসেদুল কামাল বাবুও জানান, ‘বোর্ড অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে ছিল। পরিচালক হিসেবে কেউ বিশ্বকাপ না খেলতে চায়নি। একজনও না। আমরা তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু সে সুযোগটা পাওয়া যায়নি।’

আইসিসিকে জানিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত

বিসিবি নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘ দিনের বিতর্কে নতুন মোড় এনেছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন। তবে কাউকে দায়ী না করে জমা দেয়া এই প্রতিবেদন এখন বল ঠেলে দিয়েছে আইসিসির কোর্টে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আইসিসিকে অবহিত করার পর মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

সাভারে বিকেএসপি পরিদর্শন শেষে আমিনুল হক বলেছেন, ‘সকাল বেলা তদন্ত কমিটি এসে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি মিটিং ডেকেছিলাম এবং সেই মিটিংয়ে আলাপ আলোচনা করেছি পরবর্তী করণীয় নিয়ে। আইসিসি রয়েছে, আইসিসিকে তদন্ত রিপোর্টটি অবহিত করার পরেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’