নিজস্ব প্রতিবেদক
সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরী পোশাকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে সামগ্রিক রফতানি আয়ও কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়া এবং মূল্যচাপের কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গতকাল রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশের মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই মাসে রফতানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
একই সময়ে দেশের তৈরী পোশাক খাতের রফতানি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম। দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশই আসে তৈরী পোশাক খাত থেকে। ফলে এ খাতে পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রফতানি আয়ে।
ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশের মোট রফতানি আয় হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে ১১ মাসের ব্যবধানে রফতানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
অন্য দিকে একই সময়ে তৈরী পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রায় পুরো সময়জুড়েই পোশাক খাত কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পোশাকের চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় রফতানি আদেশে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য কমানোর প্রবণতার কারণে রফতানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রফতানি আদেশ থাকলেও আগের তুলনায় কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে।
বিজিএমইএ সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের (বিএই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল নয়া দিগন্তকে বলেন, জ্বালানি সঙ্কট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং ডলারের অস্থিরতাও খাতটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কারখানা কাক্সিক্ষত মুনাফা অর্জন করতে পারছে না।
তিনি বলেন, টানা কয়েক মাস দুর্বল অবস্থার পর গত এপ্রিলে রফতানি আয়ে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল যে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু মে মাসের পরিসংখ্যান সেই আশাবাদকে অনেকটাই মøান করে দিয়েছে।
নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নয়া দিগন্তকে বলেন, আগামী মাসগুলোতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। একই সাথে বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে ক্রিসমাস ও শীতকালীন মৌসুমকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রয়াদেশ বাড়লে রফতানি পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের রফতানি খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ।



