রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো দখল করে থানার ওসি বসবাস করছেন, এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে আসা ধর্মীয় মেহমানদের আবাসনের সঙ্কট তৈরি হওয়ায় তাদের অসন্তোষ আরো বাড়ছে।
জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগ দেয়া ওসি সুজন বিশ্বাস থানার সরকারি বাসভবনে না উঠে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় ওঠেন। দীর্ঘদিন ধরে আগের ওসিরা থানার ভেতরের একটি ভবনে বসবাস করলেও বর্তমান ওসি ডাকবাংলো ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ডাকবাংলোর প্রধান ফটকও তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।
গত শুক্রবার ভারতের জৌনপুর থেকে তিনজন আলেম ধর্মীয় প্রচারণার কাজে রাজাপুরে আসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বছর তারা সরকারি ভাড়া পরিশোধ করে ওই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করতেন। কিন্তু এবার ওসির অবস্থানের কারণে সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বলেন, প্রতি বছর জৌনপুরের আলেমরা এ এলাকায় আসেন এবং সাধারণত দুই দিন ডাকবাংলোতে থাকেন। এবার তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা না যাওয়ায় স্থানীয়রা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।
ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো: মানিক তালুকদার বলেন, ভবনটি ফাঁকা থাকায় কয়েক দিন আগে ওসি সেখানে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাখেন।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী বলেন, থানার ভেতরে ওসির বাসভবনে সংস্কারকাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তিনি ডাকবাংলো ছেড়ে দেবেন।
অভিযোগের বিষয়ে ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, থানার ভেতরে ওসিদের থাকার মতো মানসম্মত ভবন নেই। আগের ভবনটি পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় বাধ্য হয়েই তিনি ডাকবাংলোয় উঠেছেন।
স্থানীয় অনেকে বলছেন, সরকারি আবাসন সংকটের সমাধান জনসাধারণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে হতে পারে না। দ্রুত ডাকবাংলোটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা।



