নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বেশ কিছু নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার (পুশইন) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশী পরিচয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার ভারতীয় নীতি অত্যন্ত নিন্দনীয়। নাগরিকদের পরিচয় শনাক্ত করে কূটনৈতিক চ্যানেলে সমস্যার সমাধান না করে ভারতের ‘পুশইন’ নীতি অবলম্বন অগ্রহণযোগ্য, যা সীমান্তকে অস্থিতিশীল, নিরাপত্তাহীন ও উদ্বেগপূর্ণ করে তুলেছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে বিএসএফ ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এমন নীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৩১ মে রোববার রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় পুশইনের বিষয়ে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে নারী ও শিশুসহ ৮ থেকে ১০ জন ভারতীয় নাগরিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) অবস্থান করছে। অবিলম্বে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতীয় বাহিনীর ‘পুশইন’ চেষ্টার প্রতিবাদ না করা এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিরও নিন্দা জানাচ্ছি। একই সাথে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ রোধ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক পদেক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ঋণখেলাপি নন, খেলাপি তার স্ত্রী : বাংলাদেশ ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো: খুরশীদ আলম নিজে ঋণখেলাপি নন, তবে তার স্ত্রী একটি খেলাপি ঋণের সাথে যুক্ত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগের পর তার নামে খেলাপি ঋণ রয়েছে, এমন একটি গুঞ্জন ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি স্পষ্ট করতে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময়ের এস আলমের মালিকানাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক মো: খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণটি পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। ফলে খুরশীদ আলমকে সরাসরি ঋণখেলাপি হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়। তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলেও, খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন।’
ফলে খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে প্রচারিত ঋণখেলাপির তথ্যটি সঠিক নয় এবং এ বিষয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পুরনো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা
ঋণখেলাপির বিতর্কের পাশাপাশি খুরশীদ আলমকে ঘিরে সম্প্রতি আরেকটি পুরনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস-২০০৩’-এর ৪৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী শাস্তি হিসেবে তার দু’টি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ করা হয়।
তৎকালীন সময়ে খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেবল ইনক্রিমেন্ট বন্ধের মতো লঘু শাস্তি দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগের পর সেই পুরনো বিতর্কগুলো আবারো সামনে এসেছে। তবে দীর্ঘ আট বছর পর ওই ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে বলেন, ‘সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না। এই কারণেই পরবর্তী সময়ে (শাস্তি কাটিয়ে) তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।’
ঋণখেলাপির নতুন অভিযোগ এবং অতীতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান নানা বিতর্কের মধ্যেই মো: খুরশীদ আলমকে নিয়ে আর্থিক খাতে আলোচনা ও গুঞ্জন অব্যাহত রয়েছে।
খুলনায় জামায়াতের লুটেরাদের ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে
আবার লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, লুটেরাদের ব্যাংক খাতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবার লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সাড়ে তিন মাসেও দেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে । বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি গতকাল মহানগরীর সোনাডাঙ্গার আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে দলের খুলনা বিভাগের জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য ড. আবু সাদিক, খুলনা মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, যশোর জেলা আমির মো: গোলাম রসুল এমপি, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি, বাগেরহাট জেলা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, মাগুরা জেলা আমির এম বি বাকের, কুষ্টিয়া জেলা আমির এ কে এম আলী মুহসিন, মেহেরপুর জেলা নায়েবে আমির মো: মাহবুবুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা নায়েবে আমির মো: আজিজুর রহমান, খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি মো: আসাদুজ্জামান, মেহেরপুর জেলা সেক্রেটারি মো: ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ জেলা সেক্রেটারি মো: আব্দুল আওয়াল, সাতক্ষীরা জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো: ওবায়দুল্লাহ ও বাগেরহাট জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো: মিজানুর রহমান মল্লিক প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, দেশের শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জামায়াতে ইসলামী সরকারের সব ভালো কাজের সহযোগিতা করবে এবং মন্দ কাজের প্রতিবাদ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার কারণে জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার এই অবনতির দায় বর্তমান সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
এ সময় তিনি আগামী ২০ জুন ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সব দায়িত্বশীলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
জনগণকে রাজপথে নামতে
বাধ্য করবেন না : এ টি এম মাছুম
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দুঃখের বিষয় ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার করেনি এবং গণতন্ত্রের নামে জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ১৫ বছর শাসন করেও টিকতে পারেনি। তাদের মত আচরণ করে জনগণের মতকে উপেক্ষা করলে আপনারা এক বছরও টিকে থাকতে পারবেন না। সুতরাং জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।
তিনি গতকাল নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দিনব্যাপী অগ্রসর কর্মী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা মো: বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহাজাহান । আরো বক্তব্য রাখেন এবং দারসুল কুরআন পেশ করেন কুমিলা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, কুমিল্লা মহানগরী সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ । এতে জেলার বিপুলসংখ্যক অগ্রসর কর্মী অংশ নেন।



