লোহাগাড়ায় ২ বাসের সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৫০

বগুড়া ও ভালুকায় ২ জনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে চারজন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ময়য়মনসিংহের ভালুকা ও বগুড়ার আদমদীঘিতে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুইজন।

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত যাত্রী। তাদের মধ্যে আট-দশজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি ফোরসিজন রেস্টুরেন্টের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- যথাক্রমে পটিয়া উপজেলার পশ্চিম পটিয়ার সফর আলী মুন্সীর হাট এলাকার আবদুস সোবাহানের মেয়ে রেহেনা বেগম (৬০), ঝিনাইদহের গোপালপুর এলাকার নাইমুর রহমান জিহাদ, একই এলাকার মো: নাইম ও ভোলার মনির আহমদ।

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মুহাম্মদ মাসুম (৩০), আরাফাত (২২), দ্বীপ দত্ত (৩০) ও রিয়াজ (২৮)সহ আরো অনেকে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় বাস দুইটির একটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে কক্সবাজার অভিমুখে যাচ্ছিল আরেকটি কক্সবাজার থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাচ্ছিল। যাত্রীদের অভিযোগ- গাড়ি দুইটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদেরকে উন্নত চিকিংসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা ট্রমা সেন্টারের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক, জুনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা: তাসফিক আহমেদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মোট আটজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চারজনের মৃত্যু হয়। বাকি চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে পাঠানো হয়েছে।

এ দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ভালুকায় সিএনজি-চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি-চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সুরাইয়া আক্তার (১১ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদী সনি খাতুন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী চৌরাস্তা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরাইয়া আক্তার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট কড়ইতলা এলাকার ছমির উদ্দিনের মেয়ে। দুর্ঘটনার সময় শিশুটি তার দাদী সনি খাতুনের কোলে ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুরাইয়া আক্তার তার মা ও দাদীর সাথে উপজেলার উথুরা নানার বাড়ি থেকে সিএনজিতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলা এলাকায় যাচ্ছিল। পথে ভরাডেবা-ঘাটাইল সড়কে ভালুকা উপজেলার নারাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারি-চালিত অটোরিকশার সাথে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দাদী সনি খাতুন ও তার কোলে থাকা শিশু সুরাইয়া আক্তার ছিটকে নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ট্রাক্টর ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশাচালক মনোয়ার হোসেন (৬০) মারা গেছেন। দুর্ঘটনায় অটোরিকশার আরোহীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। নিহত অটোরিকশাচালক মনোয়ার হোসেন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের মৃত জহিরউদ্দীনের ছেলে।

আহতরা হলেন- রাফিয়া খাতুন (৫০), শিশু আবু তোহা (২), রাজিয়া সুলতানা (৩০), গুনাইব (২০)। আহত এই চারজনের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামে। আহতদের রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুই ব্যক্তি হলেন, মনসুর আলী (৫৫) ও মাহামুদ জুয়েল (৫২)।

দুইজনের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি মহল্লায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এ দুইজনকে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিক্যাপল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।