নিজস্ব প্রতিবেদক
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর আসন্ন পয়লা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের প্রচেষ্টামূলক বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক আখ্যা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গকতাল বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আসন্ন পয়লা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত ও সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের একটি কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে। আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তাকে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হেফাজত মহাসচিব বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা মূলত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় ঐতিহ্য। এই ধর্মীয় আচারকে পয়লা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে থাকবেন না। বরং বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলমানদের স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই এ দেশের জাতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া ন্যায্য।
বিবৃতিতে ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে যখন প্রথম পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়, তখন এর নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাম পরিবর্তন করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রাখা হয় এবং একে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে দাবি করার চেষ্টা করা হয়। ২০২৪-এর জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকার চারুকলার সেই ‘ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে উৎসবের আদি নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে এনেছিল। এখন পুনরায় সেই সাম্প্রদায়িক আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিরোধিতা করিনি, কারণ আমরা সাম্প্রদায়িকতা লালন করি না। কিন্তু আমাদের এই ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে যদি হিন্দুত্ববাদী বা আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে আবারো সুযোগ করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা সরকারকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।



