ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে আহত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে।
গতকাল বুধবার ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম মামলা দায়ের ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার দিন ব্রহ্মপুত্র নদের বটতলা বালুরঘাট এলাকায় ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে গুরুতর আহত হন মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে শিপন মিয়া (১৮)। প্রথমে তাকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রোববার উচাখিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের নির্দেশে মরিচারচর গ্রামের ইব্রাহিম ও তার মামা আব্দুল খালেক সরকারের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানেও ভাঙচুর চালায় এবং কনের বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫টি বাড়ির প্রায় ৫০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর, খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ এবং গবাদিপশু ও সেচযন্ত্র লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।



